সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ তাদের নিজ এলাকা নওগাঁর আত্রাইয়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো আত্রাই উপজেলায় পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো সৌদি আরব থেকে ঢাকায় পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে প্রশাসনের উদ্যোগে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে নেওয়া হয়।
মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছানোর পর রাত থেকেই নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা শেষবারের মতো তাদের দেখতে আত্রাই থানা কম্পাউন্ডে ভিড় করেন।
আত্রাই উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা সদরের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতজনের একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহতরা হলেন, আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী, বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের সমন্বয়ে বিনা খরচে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন একসঙ্গে জানাজার আয়োজন করেছে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুরুতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাই উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।