সুবর্ণভূমি ডেস্ক
প্রতীকী-
ছবি:
বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় দশ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এসব নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে যশোর-৫ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য কাজী এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলো থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় দশ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দী রয়েছেন। কোনো দেশে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করা বাংলাদেশি নাগরিকরা ওই দেশের আইনি প্রক্রিয়ার অধীন থাকেন। তাই সেই দেশের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই সরকারকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হয়।
তিনি জানান, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশের কারাগারে বন্দী থাকার তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশন কারাগার কিংবা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। পরে আটক ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো বন্দীর আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকলে আদালতের মাধ্যমে একজন আইনজীবী নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশন প্রচেষ্টা চালায়। বন্দীর পরিবার আলাদাভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে মিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কোনো ক্ষেত্রে জরিমানা পরিশোধের প্রয়োজন হলে বন্দীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিটের ব্যবস্থাও করা হয়।
পরিবার প্রত্যাবাসনের ব্যয় বহনে অসমর্থ হলে সরকারি অর্থে সেই ব্যয় বহন করা হয়।
তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় প্রটোকলসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরার জন্য দ্রুত ট্রাভেল পাস ইস্যুর ব্যবস্থাও করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো এসব সেবা দিয়ে থাকে।
তিনি জানান, ক্ষেত্রবিশেষে স্বাগতিক দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার জন্যও জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিক এবং মিয়ানমারে আটক তিন বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি পোর্টাল চালু করবে।