যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ইসলামের দৃষ্টিতে ভেজালকারীর উপার্জন

মুফতি আরিফুল ইসলাম ফয়সাল

প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০১:০০ পিএম
ইসলামের দৃষ্টিতে ভেজালকারীর উপার্জন

মানুষের জীবন ধারণের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন খাদ্য। সুস্থ, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য মানুষের অধিকার। অথচ লাভের লোভে খাদ্যে ভেজাল, বিষাক্ত রাসায়নিক, নিম্নমানের উপাদান কিংবা ক্ষতিকর দ্রব্য মেশানো আজ সমাজের একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু ব্যবসায়িক প্রতারণা নয়; বরং মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা।

ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যে মুনাফাকে নিষিদ্ধ করেনি; বরং বৈধ ব্যবসাকে হালাল করেছে। কিন্তু সেই ব্যবসায় প্রতারণা, ধোঁকা, মানুষের ক্ষতি এবং অন্যের অধিকার নষ্ট করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। তাই খাদ্যে ভেজালকে নিছক ‘অসততা’ বলে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এর মধ্যে একদিকে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ, অন্যদিকে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর জুলুম—দুই অপরাধই একত্রিত হয়।

খাদ্য হতে হবে হালাল ও পবিত্র

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র, তা থেকে আহার করো।’ সুরা আল-বাকারা: ১৬৮

এখানে আল্লাহ শুধু ‘হালাল’ বলেননি; বলেছেন, হালাল ও পবিত্র। অর্থাৎ খাদ্য বৈধ হওয়ার পাশাপাশি তা ভালো, পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও ক্ষতিকরমুক্ত হওয়াও ইসলামের খাদ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অতএব কোনো খাদ্য বৈধ উপাদানে তৈরি হলেও যদি তা ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে ভেজাল করা হয় যে, মানুষের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা ইসলামের ‘তাইয়্যিব’ নীতির পরিপন্থি।

খাদ্যে ভেজাল কি প্রতারণা?

রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার খাদ্যের স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপের ভেতরে হাত প্রবেশ করিয়ে ভেজা অংশ অনুভব করলেন। বিক্রেতা বললেন, বৃষ্টির কারণে এমন হয়েছে। তখন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ভেজা অংশটি ওপরে রাখলে মানুষ তা দেখতে পেত। এরপর তিনি ঘোষণা করলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।’ সহিহ মুসলিম: ১০২

এ হাদিস খাদ্যে ভেজালের ব্যাপারে অত্যন্ত শক্তিশালী সতর্কবার্তা। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু ওজনে কম দেওয়াকে প্রতারণা বলেননি; পণ্যের ত্রুটি গোপন করাকেও প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আজকের বাস্তবতায় নিম্নমানের বা ক্ষতিকর উপাদান ভালো পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া, পচা খাদ্যকে ভালো খাদ্যের সঙ্গে মেশানো, খাদ্যের প্রকৃত মান গোপন করা কিংবা ক্রেতাকে না জানিয়ে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা—সবই প্রতারণার আওতায় পড়ে।

ভেজালকারী কেন ‘নীরব হত্যাকারী’

‘খাদ্যে ভেজালকারী জাতি হত্যাকারী’— এ কথাটি সংবাদপত্রের শিরোনাম হিসেবে তীব্র সামাজিক সতর্কবার্তা তৈরি করতে পারে। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে কাউকে সরাসরি ‘হত্যাকারী’ বা ‘খুনি’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করার আগে অপরাধের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও ফলাফল বিবেচনা করতে হবে। তবে জেনে-শুনে এমন খাদ্যে ভেজাল করা, যার কারণে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে—এটি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ ব্যাপার। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুও যদি সেই ক্ষতিকর কাজের প্রত্যক্ষ ও প্রমাণিত ফল হয়, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।’ সুরা আন-নিসা: ২৯

অর্থাৎ ইসলাম মানুষের জীবন রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। যে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড মানুষের জীবনকে জেনে-শুনে বিপদের মধ্যে ঠেলে দেয়, তা ইসলামের জীবনরক্ষার মূলনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

এক ব্যক্তির ক্ষতি—সমাজের বিরাট ক্ষতি

কুরআনে প্রাণের মর্যাদা বোঝাতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা এসেছে, ‘যে একটি প্রাণকে হত্যা করলো, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করলো; আর যে একজনের জীবন রক্ষা করলো, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করলো।’ সুরা আল-মায়িদা: ৩২

এ আয়াতটি বনি ইসরাইলের ওপর নির্ধারিত বিধানের প্রসঙ্গে এসেছে। তাই আয়াতের সরাসরি আইনগত প্রেক্ষাপট অক্ষুণ্ন রেখে এর নৈতিক শিক্ষা হলো, মানবজীবনের মূল্য অপরিসীম।

এই শিক্ষা খাদ্যে ভেজালের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। খাদ্য নিরাপদ রাখা যেমন মানবকল্যাণের কাজ, তেমনি জেনেশুনে মানুষের খাদ্যকে ক্ষতিকর করে তোলা সমাজের ওপর ভয়াবহ অপরাধের বোঝা চাপিয়ে দেয়।

ভেজাল ব্যবসা শুধু প্রতারণা নয়, এটি মানুষের সম্পদের ওপর জুলুম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের প্রাপ্য বস্তু তাদের কম দিও না।’ সুরা আল-আ’রাফ: ৮৫

হজরত শু’আইব (আ.)-এর জাতি ব্যবসায় ওজন ও পরিমাপে কারচুপি করতো। তাদের সংশোধনের জন্য আল্লাহ তাআলা পূর্ণ মাপ ও ওজনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন।

আজকের ভেজালও একই নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। একজন ক্রেতা টাকা দিয়ে যে মানের খাদ্য পাওয়ার অধিকার রাখেন, ভেজালকারী তাকে সেই মানের খাদ্য না দিয়ে তার অর্থের বিনিময়ে নিম্নমানের বা ক্ষতিকর বস্তু প্রদান করেন। ফলে তিনি ক্রেতার অর্থ ও স্বাস্থ্য—উভয়ের ওপর জুলুম করেন।

ভেজালকারীর উপার্জন কি হালাল হতে পারে?

ইসলামে ব্যবসার মূলনীতি হলো পারস্পরিক সম্মতি, সত্যবাদিতা ও বৈধ পণ্য। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা হলে তা ভিন্ন।’ সুরা আন-নিসা: ২৯

এখানে ‘পারস্পরিক সম্মতি’ তখনই অর্থবহ, যখন ক্রেতা পণ্যের প্রকৃত অবস্থা জানেন। পণ্যের ত্রুটি গোপন করে কিংবা ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করলে ক্রেতার সম্মতি প্রকৃত অর্থে প্রতারণামুক্ত সম্মতি থাকে না।

হারাম উপার্জন ইবাদতের ওপরও প্রভাব ফেলে

রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র; তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।’

এরপর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, যে দীর্ঘ সফর করে, ধূলিধুসর অবস্থায় হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করে; কিন্তু তার খাদ্য, পানীয় ও উপার্জন হারাম। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করেছেন, এ অবস্থায় তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে? সহিহ মুসলিম: ১০১৫

অতএব একজন ব্যবসায়ী যদি ভেজাল, প্রতারণা ও মানুষের ক্ষতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন, তাহলে শুধু তার ব্যবসায়িক জীবনের নয়, তার ইবাদত ও আখিরাতের জীবনও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভেজালের ভয়াবহতা কোথায়

খাদ্যে ভেজালের ক্ষতি শুধু একজন ক্রেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে প্রথমত, ক্ষতিকর খাদ্য মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করতে পারে;

দ্বিতীয়ত, উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হলে পুরো পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে;

তৃতীয়ত, খাদ্য নিরাপদ না হলে শিশুদের সুরক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে;

চতুর্থত, ভেজালের কারণে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে এবং কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে;

পঞ্চমত, যখন ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট হয়, তখন ব্যবসা-বাণিজ্যের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে;

ষষ্ঠত, মানুষের হক নষ্ট করে অর্জিত সম্পদ দুনিয়ায় সাময়িক লাভ দিলেও আখিরাতে জবাবদিহি থেকে মুক্তি দেবে না।

সহযোগীরাও দায়ী হতে পারে

ভেজালকারী যেমন অপরাধী, তেমনি জেনে-শুনে ভেজাল কাজে সহযোগিতা করা, ভেজাল পণ্য গোপন করা, মিথ্যা সনদ দেওয়া, অসাধু ব্যবসায়ীর অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা ঘুসের বিনিময়ে মানুষের ক্ষতিকর পণ্য বাজারজাতের সুযোগ করে দেওয়াও ইসলামের নৈতিকতার পরিপন্থি।

কারণ ইসলাম অন্যায় কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। ‘তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো না।’ সুরা আল-মায়িদা: ২

সুতরাং খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা শুধু ব্যবসায়ীর দায়িত্ব নয়; উৎপাদক, আমদানিকারক, পরিবেশক, বিক্রেতা, তদারকি প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা—সবারই নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।

ভোক্তারও দায়িত্ব আছে

শুধু সরকার বা ব্যবসায়ীদের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। একজন সচেতন ভোক্তাকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

১. অস্বাভাবিকভাবে সস্তা ও সন্দেহজনক খাদ্য কেনা থেকে বিরত থাকা;

২. পণ্যের লেবেল, মেয়াদ ও মান যাচাই করা;

৩. সন্দেহজনক পণ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো;

৪. প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপবাদ না দেওয়া;

৫. ভেজাল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা;

৬. ‘কম দামে বেশি’ পাওয়ার লোভে নিজের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলা।

ব্যবসায়ীদের প্রতি ইসলামের আহ্বান

ব্যবসায়ী ভাইদের মনে রাখতে হবে, লাভ হারাম নয়; কিন্তু মানুষের ক্ষতি করে লাভ করা হারাম।

আজ যে টাকা ভেজালের মাধ্যমে অর্জিত হচ্ছে, তা হয়তো ব্যবসায়ীর ব্যাংক ব্যালান্স বাড়াবে; কিন্তু এর বিনিময়ে কোনো অসুস্থ শিশুর কান্না, কোনো পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়, কোনো মায়ের দুশ্চিন্তা কিংবা কোনো মানুষের কষ্ট যদি তার আমলনামায় যুক্ত হয়, তাহলে সেটা কেমন লাভ?

রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতারণার ব্যাপারে এত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন যে, তিনি বলেছেন, ‘যে প্রতারণা করে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।’ সহিহ মুসলিম: ১০২

একজন মুসলমান ব্যবসায়ীর সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু তার দোকানের নাম, পণ্যের মান কিংবা মূলধন নয়; বরং তার আমানতদারি ও আল্লাহভীতি।

সমাধানের পথ

খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করতে হলে কেবল অভিযান বা জরিমানাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি নৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আন্দোলন।

১. মসজিদ, মাদরাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে খাদ্যে ভেজালের শরয়ি ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে;

২. অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না;

৩. উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি করতে হবে;

৪. যারা ভেজালমুক্ত ও মানসম্মত পণ্য বিক্রি করেন, তাদের সামাজিকভাবে সম্মানিত করা উচিত;

৫. নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি;

৬. ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে, ক্রেতা তাকে না দেখলেও আল্লাহ তাকে দেখছেন।

লাভের আগে আখিরাতের হিসাব

খাদ্যে ভেজাল দিয়ে কেউ হয়তো কিছু বেশি লাভ করতে পারে। কিন্তু আল্লাহর কাছে সে লাভের হিসাব কীভাবে দেবে?

যে খাদ্য একজন বাবা তার সন্তানের জন্য কিনেছেন, সেখানে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর কিছু মেশানো হয়; যে খাদ্য একজন অসুস্থ মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় গ্রহণ করছে, সেখানে যদি প্রতারণা করা হয়, তাহলে এটি শুধু ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়; এটি আমানতের খেয়ানত, মানুষের হক নষ্ট করা এবং জুলুমের এক ভয়াবহ রূপ।

মুসলিম ব্যবসায়ীর নীতি হওয়া উচিত, ‘আমার লাভ কম হোক, কিন্তু আমার কারণে কোনো মানুষের ক্ষতি না হোক।

কারণ দুনিয়ার বাজারে ভেজাল পণ্যের পরীক্ষা হয়তো কোনোদিন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব; কিন্তু আখিরাতের আদালতে কোনো ভেজাল, কোনো মিথ্যা লেবেল, কোনো গোপন রাসায়নিক এবং কোনো প্রতারণা গোপন থাকবে না। সেদিন সম্পদের পরিমাণ নয়, প্রশ্ন হবে কীভাবে উপার্জন করেছিলে এবং কীভাবে ব্যয় করেছিলে?

অতএব আসুন, ব্যবসায়ী হই, কিন্তু প্রতারক না হই। লাভ করি, কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে নয়। সম্পদ অর্জন করি, কিন্তু মানুষের হক নষ্ট করে নয়।

খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করা শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি ইমান, আমানতদারি ও মানবতার দাবি।

লেখক: ইমাম ও খতিব, নলডাঙ্গা রোড জামে মসজিদ, যশোর

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)