যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের খবর সম্বন্ধে স্পষ্ট বক্তব্য চাই

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : রবিবার, ৪ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের খবর সম্বন্ধে স্পষ্ট বক্তব্য চাই

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের খবরটি জনমনে কৌতূহল তৈরি করেছে। প্রবল জনরোষের মুখে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। সেদিন তিনি নিজ বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে তড়িঘড়ি একটি সামরিক উড়োজাহাজে চড়ে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এর আগে তিনি ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন গণবিক্ষোভ দমনে অন্তত এক হাজার ৪০০ নিরীহ মানুষকে হত্যায় অভিযুক্ত। তার দল আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলটির ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ-যুবলীগ এখন নিষিদ্ধ সংগঠন। যেকোনো রাজনৈতিক তৎপরতা চালালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

এখন থেকে প্রায় এক বছর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে তার রাজনৈতিক-সাংগঠনিক তৎপরতা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বার বার বিষয়টি ভারতকে জানিয়েছে। ভারতের সরকারও দিল্লিতে সেফ হাউজে বসে হাসিনার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে সামান্য হলেও পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

কালীগঞ্জের ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, যদি সত্যিই টেলিগ্রাম গ্রুপে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি বৈঠক হয়ে থাকে, যেখানে দলের সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকে কিছুই জানতে পারলো না কেন? আর যদি বৈঠকটি আদৌ না হয়ে থাকে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত মানুষের পোস্ট, অংশগ্রহণের দাবি এবং বৈঠকের বিস্তারিত বর্ণনা কীভাবে তৈরি হলো? দুই ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দায় আছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি এবং ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্পষ্ট বলেছেন, তারা বৈঠক হওয়ার বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাননি এবং সাইবার ক্রাইম টিম বিষয়টি যাচাই করছে। অতএব, কথিত বৈঠককে আপাতত প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে হিসাবে না দেখলেও গোয়েন্দা ব্যর্থতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ দেশবাসী জানেন, ইতিপূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থানের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শেখ হাসিনা একইভাবে যোগাযোগ তথা বৈঠক করেছেন।

কালীগঞ্জের ঘটনাটি হয়তো এর সবশেষ নজির। সেকারণে গোয়েন্দা নজরদারির ফাঁক-ফোকর নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি দেশের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিরাপদে অনলাইন যোগাযোগ করতে পারেন, সাংগঠনিক নির্দেশনা দিতে পারেন এবং সেই বৈঠকের খবর পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের নজরদারি ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি ছিল, সেটি তদন্ত করা জরুরি।

এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। বৈঠকটি আদৌ হয়েছিল কি না, হলে কোথা থেকে পরিচালিত হয়েছিল, কারা অংশ নিয়েছিল, কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং আইন ভঙ্গের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—সবকিছু প্রযুক্তিগত ও আইনগত প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট করতে হবে। তবে নিরীহ

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের আস্থা অনুমাননির্ভরতায় নয়, প্রমাণনির্ভর তদন্তেই প্রতিষ্ঠিত হয়। বৈঠক হয়ে থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা ব্যর্থতার জবাব চাই। না হয়ে থাকলে গুজবের উৎস ও উদ্দেশ্যও উদ্ঘাটন চাই।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)