স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
একদিনের সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালতে যশোরে মাদক, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের মামলায় ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই আদালতে দুজনকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল এসব রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বৈদ্যুতিক তামার তার চুরির অভিযোগে কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার সেলিমের ছেলে সজিব ওরফে রানাকে আটক করেন উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তামার তার কেনার অভিযোগে ভাঙারি ব্যবসায়ী লোন অফিস পাড়ার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে শাহিন হাসান তুহিনকেও আটক করা হয়। পরে তুহিনের দোকান থেকে তামার তার উদ্ধার করা হয়।
রানা তার চুরির কথা স্বীকার করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক রানাকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।
তুহিনকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। শর্তে বলা হয়, আগামী এক বছরের মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ভোগ করতে হবে।
ওই দিন তাকে আটক করা হলে সেদিন থেকেই রায় কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাঁচড়া রায়পাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে থেকে চার পিস ইয়াবা ও দুই পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
তারা হলেন রায়পাড়ার মৃত ইসরাইল ড্রাইভারের ছেলে সজল হোসেন, আশ্রম রোডের হাফিজুর রহমানের ছেলে সুবহান সর্দার এবং শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন।
তাদের মধ্যে সজল কোতোয়ালি থানার চারটি মামলার আসামি। আদালতে তারা দোষ স্বীকার করলে বিচারক প্রত্যেককে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ডিবি পুলিশ গত ২৯ সেপ্টেম্বর রেলগেট পশ্চিমপাড়ার একটি বাড়ির সামনে থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শিরিন খাতুন ওরফে শীলাকে আটক করেন। তিনি ওই এলাকার জিন্না সরদারের স্ত্রী। আদালত তাকে দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
তবে কারাদণ্ড ভোগ করতে রাজি না হলে তাকে আগামী দুই বছর প্রতি সপ্তাহে একবার করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তার কাছে হাজিরা দিতে হবে।
গত ১ অক্টোবর শহরের রেলগেট এলাকা থেকে গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। তারা হলেন শংকরপুরের জামাল গাজীর ছেলে তুহিন গাজী, পুলেরহাটের আজাহার মন্ডলের ছেলে ফয়সাল মন্ডল এবং বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঘনুশাখাটিয়া গ্রামের আফিজ উদ্দিনের ছেলে আইনুল ইসলাম।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক প্রত্যেককে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গত ২ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের বড়োবাজার মসজিদ গলির প্রিন্স হোটেলের সামনে থেকে চার পিস ইয়াবাসহ সোহাগ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
তিনি শহরের ঘোপ এলাকার সোহরাব হোসেনের ছেলে। আদালত তাকে চার মাসের কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গত ৩ অক্টোবর সকালে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের একটি বাড়ি থেকে গাঁজাসহ আল আমিন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন।
জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আল আমিন ঘোপ নওয়াপাড়া বাইলেনের সোহরাব হোসেনের ছেলে।
গত ৩ অক্টোবর যশোর-বেনাপোল সড়কের মালঞ্চি বাজারে তামার তারসহ ইমরান শাহীন নামে এক যুবককে আটক করে চাঁচড়া পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। এ সময় কয়েক টুকরো তামার তার জব্দ করা হয়।
রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ইমরাম শাহীনকে চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।