যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

সম্ভাবনার জেলা মেহেরপুরে বন্ধ হ্যাচারি দ্রুত চালু করুন

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর,২০২৬, ১২:০০ এ এম
সম্ভাবনার জেলা মেহেরপুরে বন্ধ হ্যাচারি দ্রুত চালু করুন

মাছ চাষে অপার সম্ভাবনা রয়েছে মেহেরপুরের। জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই কমবেশি মাছের চাষ হচ্ছে। গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক খামার, পরিচিতি পেয়েছে ‘মৎস্য গ্রাম’। বছরে প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনও হচ্ছে। অথচ এই সম্ভাবনাময় খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ মানসম্মত রেণু ও পোনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে রয়েছেন জেলার চাষিরা। এটা খুবই হতাশাজনক ব্যাপার।

মেহেরপুরে সরকারি দুটি মৎস্য হ্যাচারি থাকলেও কার্যত কোনোটিই স্থানীয় চাষিদের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। গাংনী উপজেলা সরকারি মৎস্য হ্যাচারিটি প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ। একসময় যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু ও পোনা উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আশপাশের জেলাতেও সরবরাহ করা হতো, সেটিই এখন অযত্ন-অবহেলায় প্রায় পরিত্যক্ত। নষ্ট হয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো পড়ে আছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। এমনকি সরকারি জমি বেদখল হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অন্যদিকে জেলা সদরের সরকারি হ্যাচারিটিও দীর্ঘদিন উৎপাদনের বাইরে। ফলে মেহেরপুরের চাষিদের পোনার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে যশোর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ ও সান্তাহারের মতো দূরবর্তী এলাকার বেসরকারি হ্যাচারির ওপর। এতে শুধু পোনা কেনার ব্যয়ই বাড়ছে না, যুক্ত হচ্ছে পরিবহন খরচ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় পোনা মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে। কখনো গুণগত মান নিয়েও চাষিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সব মিলিয়ে মাছ উৎপাদনের খরচ বাড়ছে, কমছে চাষিদের লাভ।

এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ষোলটাকা গ্রামের মতো একটি ‘মৎস্য গ্রামে’, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত, সেখানে পোনার জন্য অন্য জেলার ওপর নির্ভরশীলতা স্থানীয় মৎস্য অর্থনীতির বড় দুর্বলতা। মেহেরপুরে যদি মানসম্মত পোনা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে সরকারি হ্যাচারি বন্ধ পড়ে থাকে, তবে তা নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি সম্ভাবনাময় একটি অর্থনৈতিক খাতের প্রতি দায়িত্বহীনতারও পরিচায়ক।

মৎস্য বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, লোকবল সংকট, পুকুরে পর্যাপ্ত পানি না থাকা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়াই হ্যাচারি বন্ধ থাকার প্রধান কারণ। এসব সমস্যা নিশ্চয়ই সমাধানযোগ্য। প্রয়োজন পরিকল্পনা, অর্থ বরাদ্দ, দক্ষ জনবল এবং নিয়মিত তদারকি। কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান একবার বন্ধ হয়ে গেলে বছরের পর বছর সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকবে—এমন সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মেহেরপুরের মৎস্য খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারি হ্যাচারিগুলো দ্রুত সংস্কার করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন, পর্যাপ্ত পানি ও অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগও তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু হ্যাচারি চালু করলেই হবে না; সেখানে উৎপাদিত পোনার গুণগত মান নিশ্চিত করাও জরুরি।

মেহেরপুরের মাছ চাষিরা যখন নিজেদের শ্রম ও বিনিয়োগ দিয়ে একটি সম্ভাবনাময় মৎস্য অর্থনীতি গড়ে তুলেছেন, তখন তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগানের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। দ্রুত সরকারি হ্যাচারিগুলো সচল করা গেলে পোনার সংকট কমবে, পরিবহন ব্যয় ও পোনা মারা যাওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং চাষিদের উৎপাদন খরচও কমবে। এর সুফল শুধু মেহেরপুরের চাষিরাই পাবেন না; আশপাশের জেলার মৎস্য খাতও উপকৃত হবে।

মেহেরপুরের মৎস্য সম্ভাবনাকে কেবল পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সরকারি হ্যাচারি দ্রুত চালু করা তাই কোনো বিলাসিতা নয়—এটি জেলার মৎস্য অর্থনীতির স্বার্থে জরুরি দায়িত্ব।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)