মাগুরা প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৪০ বছর পর পুরোনো সহপাঠীদের মিলনমেলায় স্মৃতির আঙিনায় ফিরে গেলেন মাগুরার শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। হাসি-কান্না, কোলাকুলি আর পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণে এক আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই পুনর্মিলনী উৎসব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিনব্যাপী শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ চার দশক পর একে অপরকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কারও চুলে পাক ধরেছে, কারও মুখে বয়সের ছাপ—তবুও প্রিয় সহপাঠীদের দেখা পেয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যেন মুহূর্তেই হারিয়ে যান সেই সোনালি কৈশোরে। পুরোনো ডাকনামে ডাকা, একে অপরকে জড়িয়ে ধরা এবং কলেজজীবনের অমলিন স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, মতবিনিময়, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসবের একপর্যায়ে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের কক্ষে সাবেক শিক্ষার্থীরা এক বিশেষ স্মৃতিচারণমূলক মতবিনিময়ে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের দেখা হওয়ায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে দীর্ঘ আড্ডায় উঠে আসে কলেজের শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা ও চেনা প্রাঙ্গণ ঘিরে পুরোনো দিনের খুনসুটি, শিক্ষকদের শাসন এবং শিক্ষাজীবনের আনন্দময় মুহূর্তগুলোর গল্প।
আলোচনা সভায় সাবেক শিক্ষার্থীরা বলেন, জীবনের প্রয়োজনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন। কর্মব্যস্ততা ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে দীর্ঘদিন অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি। তবে এই কলেজ ও সহপাঠীদের মধুর স্মৃতি তাদের হৃদয়ে সবসময় অমলিন ছিল। চার দশক পর প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে এসে তাদের মনে হচ্ছে, যেন আবারও ফিরে গেছেন সেই তারুণ্যের দিনগুলোতে।
এ সময় তারা কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার বর্তমান পরিবেশের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন।
ভবিষ্যতেও এই বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট রাখা এবং আবারও এমন মিলনমেলায় মিলিত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শেষ হয় চার দশকের ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়া এই স্মরণীয় আয়োজন।