যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

পাতার ভাঁজে ভাঁজে এক টুকরো ভালোবাসা

মো. সেলিম রেজা

প্রকাশ : রবিবার, ২৫ অক্টোবর,২০২৬, ০১:০০ এ এম
পাতার ভাঁজে ভাঁজে এক টুকরো ভালোবাসা

সুবর্ণভূমি—একটি নাম, একটি স্বপ্ন, আর আমার কাছে এক টুকরো ভালোবাসা।

একটি পত্রিকার গেটআপ ডিজাইনার হিসেবে আমার কাজ হয়তো বাইরে থেকে খুব সাধারণ মনে হতে পারে। খবর আসে, ছবি আসে, শিরোনাম আসে। তারপর সেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দ, সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলায় সাজিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পৃষ্ঠা তৈরি করা।

কিন্তু আমার কাছে প্রতিটি পৃষ্ঠা শুধু কিছু লেখা আর ছবির সমন্বয় নয়। প্রতিটি পাতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সময়, শ্রম, চিন্তা, উৎকণ্ঠা আর সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা।

দেখতে দেখতে সুবর্ণভূমি এক বছর পার করে দিলো। পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, এই একটি বছরের প্রতিটি সংখ্যা যেন আমাদের সম্মিলিত শ্রম, স্বপ্ন ও ভালোবাসার একেকটি স্মারক।

এই পথচলায় বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয় আমাদের প্রধান সম্পাদক মো. আহসান কবীর ভাইকে। তার দিকনির্দেশনা, পরামর্শ, উৎসাহ ও আস্থাই প্রতিটি কাজকে আরও সুন্দর করে তোলার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

একটি পত্রিকার গেটআপ শুধু চোখে সুন্দর হলেই হয় না; এর প্রতিটি পাতার মধ্যে থাকতে হয় বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য, পাঠকের প্রতি সম্মান এবং একটি নিজস্ব নান্দনিকতা। এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রধান সম্পাদক আহসান কবীর ভাইয়ের দিকনির্দেশনা আমাদের প্রতিটি সংখ্যাকে আরও পরিপূর্ণ করার সুযোগ দিয়েছে।

কখনো একটি শিরোনাম নিয়ে আলোচনা, কখনো ছবির বিন্যাস, কখনো পাতার সামগ্রিক সৌন্দর্য—ছোট ছোট বিষয়েও তার পরামর্শ আমাদের কাজকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।

তার আস্থা আমাদের সাহস দিয়েছে, আর তার সংশোধনগুলো আমাদের শিখিয়েছে, আরও ভালো করা সম্ভব।

এই এক বছরে কত রাত যে পত্রিকার পাতার সঙ্গে কেটে গেছে, তার হিসাব নেই। কখনো গভীর রাত, কখনো ক্লান্ত চোখ, কখনো শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন। একটি শিরোনাম বদলেছে, একটি ছবি এসেছে, কোনো খবর বড় হয়েছে, কোনো খবর ছোট হয়েছে; আবার কখনো পুরো পাতাটাই নতুন করে সাজাতে হয়েছে।

তবু ক্লান্তির চেয়ে ভালোবাসাটাই বড় হয়ে থেকেছে।

কারণ ধীরে ধীরে সুবর্ণভূমি আমার কাছে শুধু একটি পত্রিকা থাকেনি—আপন হয়ে উঠেছে।

একটি পৃষ্ঠা সাজাতে গিয়ে কখনো মনে হয়েছে, এই ছবিটা আরেকটু সুন্দরভাবে বসানো দরকার। এই শিরোনামটা একটু বড় হলে পাঠকের চোখে আরও ভালোভাবে ধরা দেবে। কোথাও একটু ফাঁকা জায়গা থাকলে পাতাটি যেন নিশ্বাস নিতে পারবে। কোথাও হয়তো রঙের সামান্য পরিবর্তন, কোথাও ছবির নতুন বিন্যাস— এভাবেই একটি একটি করে পৃষ্ঠা যেন আমাদের সম্মিলিত স্বপ্নের রূপ পেয়েছে।

পাঠক শুধু ছাপা পত্রিকাটি দেখেন। কিন্তু আমরা যারা এর প্রতিটি পাতার পেছনে কাজ করি, তারা জানি, একটি পত্রিকার প্রতিটি পাতার পেছনে কত গল্প থাকে।
কতবার শেষ মুহূর্তে লেখা বদলেছে।

কতবার মনে হয়েছে, ‘আর একটু সুন্দর করা যেত।’

কতবার পৃষ্ঠা শেষ করেও আবার খুলে বসেছি শুধু আরও একটু ভালো করার জন্য।

কারণ আমরা চেয়েছি, পাঠকের হাতে যখন সুবর্ণভূমি পৌঁছাবে, তখন যেন শুধু খবর নয়—আমাদের যত্নটুকুও পৌঁছে যায়।

এই এক বছরে সুবর্ণভূমির সঙ্গে আমার সম্পর্কও যেন একটু একটু করে বদলে গেছে। শুরুতে ছিল দায়িত্ব, তারপর অভ্যাস, তারপর ভালো লাগা, আর কখন যে সেই ভালো লাগা গভীর ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে, তা বুঝতেই পারিনি।

কখনো কোনো পৃষ্ঠা শেষ করে পুরো পত্রিকাটার দিকে তাকিয়েছি, আর ভেতর থেকে অদ্ভুত এক আনন্দ অনুভব করেছি।
মনে হয়েছে—

হ্যাঁ, এই পত্রিকার একটি ছোট্ট অংশে আমারও হাত আছে।

এই অনুভূতিটুকু কোনো পারিশ্রমিক দিয়ে মাপা যায় না। কারণ সৃষ্টির আনন্দের আলাদা একটি মূল্য আছে। নিজের শ্রমে একটি স্বপ্নকে একটু একটু করে বড় হতে দেখা— এই আনন্দ সত্যিই অন্যরকম।

আজ সুবর্ণভূমি যখন তার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে, তখন আমার চোখে শুধু একটি বছর নয়; ভেসে উঠছে অসংখ্য রাত, অসংখ্য পৃষ্ঠা, অসংখ্য শিরোনাম, অসংখ্য ছবি আর অসংখ্য স্মৃতি।

ভেসে উঠছে সেই ব্যস্ত সময়গুলো, যখন সবাই মিলে একটি সংখ্যা দাঁড় করানোর জন্য ছুটে চলেছি। কারও হাতে লেখা, কারও হাতে সংবাদ, কারও হাতে ছবি— আর আমার সামনে একের পর এক পৃষ্ঠা।

সবাই মিলে যেন একটি ছোট্ট স্বপ্নকে কাগজের ওপর প্রাণ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

এই জায়গাটাই হয়তো সুবর্ণভূমির সবচেয়ে সুন্দর দিক।

এটি শুধু একটি পত্রিকা নয়, এটি অনেক মানুষের সম্মিলিত ভালোবাসার সৃষ্টি।

আর সেই ভালোবাসাকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান সম্পাদক মো. আহসান কবীর ভাইয়ের দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ আমাদের জন্য সবসময়ই একটি বড় শক্তি হয়ে থাকবে।

একজন গেটআপ ডিজাইনার হিসেবে আমি হয়তো সেই ভালোবাসাটুকুকে শুধু পাতার বিন্যাসে প্রকাশ করার চেষ্টা করি। কিন্তু পত্রিকার প্রতিটি পাতার পেছনে যে মানুষগুলোর শ্রম, সময় ও স্বপ্ন রয়েছে, তারাই সুবর্ণভূমির আসল শক্তি।

আর পাঠক?

তারাই তো আমাদের শেষ ঠিকানা।

পাঠকের হাতে যখন একটি সুন্দরভাবে সাজানো পৃষ্ঠা পৌঁছে যায়, তখন আমাদের রাতজাগা সার্থক মনে হয়। যখন কেউ বলে, ‘পত্রিকাটা দেখতে সুন্দর হয়েছে’— তখন মনে হয়, এত পরিশ্রম সত্যিই বৃথা যায়নি।

আজ প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাই সুবর্ণভূমির প্রতি আমার একটাই চাওয়া—

তুমি আরও বড় হও।

আরও সুন্দর হও।

আরও মানুষের কাছে পৌঁছে যাও।

তোমার প্রতিটি পৃষ্ঠা হোক মানুষের কথা বলার জায়গা। তোমার প্রতিটি সংখ্যা হয়ে উঠুক সময়ের একটি স্মৃতি। তোমার প্রতিটি অক্ষরে থাকুক সত্যের স্পর্শ, আর প্রতিটি পাতায় থাকুক মানুষের প্রতি ভালোবাসা।

হয়তো আগামী দিনে প্রযুক্তি বদলাবে, ডিজাইনের ভাষা বদলাবে, পত্রিকার গেটআপ আরও আধুনিক হবে। নতুন নতুন মানুষ যুক্ত হবে। কিন্তু আমার কাছে সুবর্ণভূমির প্রথম বছরটি সবসময় আলাদা হয়ে থাকবে।

কারণ প্রথম স্বপ্নের মতো, প্রথম পথচলার মতো প্রথম বছরটিও কখনো ভোলা যায় না।

আজ তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভক্ষণে সুবর্ণভূমিকে শুধু শুভেচ্ছা জানাতে চাই না; জানাতে চাই আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা আমাদের প্রধান সম্পাদক মো. আহসান কবীর ভাইয়ের প্রতি—তার দিকনির্দেশনা, বিশ্বাস ও উৎসাহ আমাদের এই পথচলাকে আরও অর্থবহ করেছে।
আমাকে এই পরিবারের একজন করে নেওয়ার জন্য। আমার শ্রমকে একটি স্বপ্নের অংশ করে নেওয়ার জন্য। আর আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য, কাগজের পাতায় একটু একটু করে ভালোবাসা আঁকার।

সুবর্ণভূমির প্রতিটি পৃষ্ঠা আমার কাছে শুধু একটি ডিজাইন নয়; প্রতিটি পৃষ্ঠা আমার শ্রমের একটি স্মৃতি, ভালোবাসার একটি চিহ্ন, আর এই পথচলার একটি ছোট্ট সাক্ষী।
একদিন হয়তো অনেক বছর পর পুরনো কোনো সংখ্যা হাতে নিয়ে আমি প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সময়টির কথা মনে করবো।

মনে পড়বে রাতজাগা সেই দিনগুলো। মনে পড়বে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। মনে পড়বে একের পর এক সাজানো পৃষ্ঠা। মনে পড়বে প্রধান সম্পাদক আহসান কবীর ভাইয়ের সেই দিকনির্দেশনা ও উৎসাহের কথা। আর মনে পড়বে একটা সময় ছিল, যখন সুবর্ণভূমি শুধু একটি পত্রিকা ছিল না; ছিল আমার ভালোবাসারও একটি নাম।
শুভ প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সুবর্ণভূমি।

তোমার প্রতিটি পৃষ্ঠা আরও সুন্দর হোক, তোমার প্রতিটি সংখ্যা আরও সমৃদ্ধ হোক, তোমার পথচলা আরও দীর্ঘ হোক। আর তোমার পাতার ভাঁজে ভাঁজে আমাদের এই শ্রম, স্বপ্ন ও ভালোবাসা চিরকাল বেঁচে থাকুক।

লেখক: সুবর্ণভূমির প্রধান মেকআপ ডিজাইনার

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)