যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

মোংলার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে

প্রকাশ : শনিবার, ২৪ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
মোংলার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে

মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন পরিদর্শন, নৌঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, বিনিয়োগের ঘাটতি ও কর্মসংস্থানের সংকটে থাকা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে সফরটি নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে উন্নয়নের প্রত্যাশা তখনই অর্থবহ হবে, যখন পরিদর্শন ও নির্দেশনার পর কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমানো, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আনা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে মোংলা বন্দর বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে বন্দরের অবকাঠামো আধুনিকায়ন, জেটি সুবিধা সম্প্রসারণ, কনটেইনার ইয়ার্ড উন্নয়ন এবং বন্দর চ্যানেলের নাব্য বাড়াতে নিয়মিত ড্রেজিং নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত ও দক্ষ পণ্য খালাসের ব্যবস্থা না থাকলে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ ইতিবাচক। বিশেষ করে অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ, ড্রেজিং এবং চীন-বাংলাদেশের মধ্যে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নসংক্রান্ত উদ্যোগের বাস্তবায়নে অগ্রগতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে মোংলা কাস্টম হাউস ও শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বন্দরের কার্যকারিতা বাড়লে ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়বে, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে।

প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা, স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জীবিকা হারানো উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। তবে প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা স্পষ্ট করতে হবে। সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থার নিকটবর্তী এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করাই হবে দায়িত্বশীল উন্নয়ননীতি।

মোংলা বন্দরে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের বৈষম্যের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যবসা পরিচালনায় নীতিগত সমতা, স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমেয় নিয়মকানুন নিশ্চিত না হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়। একই সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক সড়ক ও নৌযোগাযোগ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, একটি বন্দরকে কার্যকর অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করতে শুধু জেটি বা টার্মিনাল নয়, প্রয়োজন সমন্বিত যোগাযোগ ও উৎপাদনব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রমাণ করে, উন্নয়নের প্রত্যাশা কতটা গভীর। কিন্তু মানুষের সঙ্গে করমর্দন কিংবা আশ্বাসের চেয়ে তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে বাস্তব পরিবর্তন—নতুন কর্মসংস্থান, ব্যবসার প্রসার এবং জীবনযাত্রার উন্নতি।

অতএব, এই সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত অগ্রাধিকারের বাস্তবায়নের ওপর। সরকারকে প্রকল্পভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, নির্দিষ্ট সময়সীমা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা করতে হবে। মোংলার সম্ভাবনা বহুদিনের; এখন প্রয়োজন সেই সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও সুশাসনের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেওয়া। তাহলেই মোংলা বন্দর শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)