কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ (২৮ অক্টোবর)।
এবারই প্রথম হামিদুর রহমানের নিজ জেলা ঝিনাইদহে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিবসটি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবছরই মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ওই অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বীরশ্রেষ্ঠের গ্রাম খরদো খালিশপুরে নিজ গ্রামে পারিবারিকভাবে ও তার নামে স্থাপিত কলেজে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল হয়ে আসছে।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান জানান, প্রতিবছর মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত কর্মসূচিতে পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন। তবে, এবছর ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি যোগ দেবেন। পরিবারের অন্য সদসস্যরা মৌলভীবাজার যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৯ মার্চ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের ৪ নম্বর সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত। উদ্বোধনকালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল গ্রামের নাম হামিদনগর ঘোষণা দেন।
গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে জাদুঘরের সামনেই স্থাপন করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের জীবনী সম্বলিত একটি বিশাল আকৃতির ফলক। ফলকে মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনীতে লেখা হয়েছে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার চাপড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে ১৯৪৫ সালে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৭-এর ভারত বিভাগের পর তার দাদা-বাবা-চাচারা চলে আসেন ঝিনাইদহ জেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে। ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। পরে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ পূর্বে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই নামে স্থানে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেন।
২৮ অক্টোবর রাতে ধলইয়ের যুদ্ধে হামিদুর রহমান শহীদ হন। মৃত্যুর পর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত আমবাসা এলাকায় একটি মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করে বাংলাদেশ সরকার।