যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিগ-বি’র গতি ফিরবে!

সাইফুল ইসলাম বাপ্পী

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ অক্টোবর,২০২৬, ১২:৩০ এ এম
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিগ-বি’র গতি ফিরবে!

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেকটাই গতিহীন হয়ে পড়েছিল জাপানের বে অফ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট বা বিগ-বি পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফর এ পরিকল্পনাকে আবারো গতিশীল করে তুলবে বলে প্রত্যাশা ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পরিকল্পনা হিসেবে ২০১৪ সালে এ অঞ্চলকে ঘিরে বিগ-বি পরিকল্পনা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত শিনজো আবে। এর পর দেশটিতে কয়েক দফায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও এ অঞ্চলে জাপানের বিনিয়োগ কৌশল আবর্তিত হয়েছে বিগ-বি-কে কেন্দ্র করেই। গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিবেশী ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি তৈরি ও সম্প্রসারণ। এর আওতায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি থেকে শুরু করে বন্দর পর্যন্ত নানা খাতের অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করেছে টোকিও। একই সময়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয়ও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে সড়ক এবং রেল যোগাযোগ তৈরিতে বড় অংকের বিনিয়োগ করা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল ও সংলগ্ন দেশগুলোয় কানেক্টিভিটি সম্প্রসারণে জাপানের আগ্রহের বিষয়টি আরো জোরালোভাবে সামনে আসে ২০২৩ সালে। ওই বছরের মার্চে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ভারত সফরে যান। সে সময় দিল্লিতে বিগ-বি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধারনা হিসেবে ‘বে অফ বেঙ্গল-নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন কনসেপ্ট’ সামনে নিয়ে আসেন তিনি। এতে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি একক অর্থনৈতিক জোন হিসেবে বিবেচনা করে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে কানেক্টিভিটি এবং ব্যক্তি পর্যায়ের চলাচল ও পণ্য পরিবহন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হলে বিগ-বি পরিকল্পনার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোয় জাপান প্রকল্প সহায়তা দেয় আনুষ্ঠানিক উন্নয়ন সহযোগিতা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায়। আর এই ওডিএ ঋণসহ উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোয় তদারক করা হয় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মাধ্যমে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত জাপানি ওডিএর আওতায় বাংলাদেশে ৭৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টের পর চুক্তি হয়েছে হাতে-গোনা কয়েকটি। এর সিংহভাগই আবার পুরনো প্রকল্পের পরের দিকের ধাপ বা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত।

বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে জাপানের অবস্থান শীর্ষে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের অনুকূলে ঋণ ও অনুদান হিসেবে তিন হাজার ৪০৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। এর মধ্যে ছাড় হয়েছে দুই হাজার ৩৭৮ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। এর বড় অংশই এসেছে বিগ-বি পরিকল্পনার আওতায়।

পরিকল্পনাটি সাজানো হয়েছে সড়ক ও রেলপথে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরগুলোর সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একটি আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে। এ বিষয়ে জাইকার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘এর লক্ষ্য হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বেল্ট এবং এর বাইরেও শিল্পের কেন্দ্রীভবনকে ত্বরান্বিত করা। অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিনিয়োগের পরিবেশের উন্নতি এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিকাশ ঘটানোর মতো বিষয়গুলোও এ উদ্যোগের আওতাধীন। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে হিসেবে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তৈরি করাও এ পরিকল্পনার একটি উদ্দেশ্য। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আন্তঃআঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারবে।’

পরিকল্পনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হলেও এর মধ্য দিয়ে জাপান বঙ্গোপসাগর তথা ইন্দো-প্যাসিফিকের ভূরাজনীতিতে চীনের ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠাকে মোকাবেলা করতে চায় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির পর্যবেক্ষকরা। জাপানের সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যেও বিভিন্ন সময় বিগ-বি নিয়ে আলোচনায় ‘অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের’ প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার উঠে এসেছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অবস্থান অনেকটা দুর্গম ও জটিল ভূগঠনের এলাকায়। গত দশকের শুরুর দিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কূটনৈতিক সংযোগ বাড়াতে লুক ইস্ট (পুবে দেখো) পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে ভারত। পরে এ কূটনৈতিক সক্রিয়তা আরো বাড়িয়ে গ্রহণ করা হয় ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ (পুবে চলো) পররাষ্ট্রনীতি। দেশটি এই পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির অন্যতম বড় কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। একই সময়ে জাপানও বিগ-বি এবং বে অফ বেঙ্গল-নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন ধারনাকে সামনে নিয়ে আসে। জাপান ও ভারত এ নিয়ে ২০১৭ সালে গড়ে তোলে ‘অ্যাক্ট ইস্ট ফোরাম’।

২০১৪ সালের জুনে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন জাইকার তৎকালীন প্রধান আকিহিতো তানাকা। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিগ-বি টুয়ার্ড গ্রোথ বিয়ন্ড বর্ডারস’ শিরোনামে একটি বক্তব্য রাখেন তিনি। এতে আকিহিতো তানাকা বলেন, ‘বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিকে বিস্তৃত হচ্ছে। এ অবস্থায় জাতীয় সীমানার গণ্ডিতে আটকে না থেকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি। আর এই সংযোগস্থাপনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বিগ-বিকে আন্তর্জাতিক ভ্যালু চেইনের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এই পরিকল্পনা নতুন মাত্রা পায় ২০২৩ সালে। সে সময় বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব ‘কৌশলগত’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে সময় টোকিওর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উন্নয়ন ঘটেছে। সেখানে কার্যক্রম চালানো জাপানি কোম্পানির সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৩ সালে এসে এই সমন্বিত অংশীদারত্ব রূপ নিয়েছে কৌশলগত অংশীদারত্বে। এ অংশীদারত্বের আওতায় জাপান বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় অর্থায়নের পাশাপাশি নানা উন্নয়ন সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগ-বি-এর তিনটি প্রধান স্তম্ভ হলো— অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনিয়োগের পরিবেশের উন্নতি ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন) ফুমিও কিশিদা ঘোষিত ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ পরিকল্পনায় বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে একটি অভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনার এবং বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত পর্যন্ত একটি শিল্প ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার ধারণা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধারণা বাস্তবায়নে অবদান রাখার লক্ষ্যে জাপানও তার উন্নয়ন সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে’।

বিগ-বি পরিকল্পনার আওতায় দেশে যেসব মেগা প্রকল্পে জাপান অর্থায়ন করেছে, তার মধ্যে রয়েছে যমুনা রেলসেতু, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে উন্নয়ন, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের (এআইডিআই) মহাপরিকল্পনা (অনুদানভিত্তিক), মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিকাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (টার্মিনাল-৩), জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েল গেজ ডবল লাইন নির্মাণ, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ লাইনের সমান্তরালে ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণ ইত্যাদি।

প্রকল্পগুলোর প্রায় সব কটিই ২০২৪ সালের আগে নেওয়া। ওই বছরের পর থেকে জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বিগ-বি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা খুব একটা সামনে আসেনি।

এসব প্রকল্প বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধারায় তুলে নেওয়ার ভিত্তি স্থাপন করছে উল্লেখ করে জাইকার বাংলাদেশ প্রধান তাকাহাশি জুনকো সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বক্তব্যে বলেছেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত সংযোগস্থলের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিএসইজেড) নির্মাণসহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো বৃহদায়তনের অবকাঠামো উন্নয়ন বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ অংশে কানেক্টিভিটি নিয়ে আলোচনায় ভাটা পড়লেও ভারতে এ উদ্যোগের আওতায় বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে জাইকা। চলতি বছরের ১৫ জুন মেঘালয়ের শিলংয়ে জাইকার অর্থায়নে কয়েকটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। এর মধ্যে রয়েছে আসামের ধুবড়ি-ফুলবাড়ী সেতু থেকে মেঘালয়ের সেলসেলা সিম্বুকোলগ্রে পর্যন্ত সাড়ে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনের সড়ক, মেঘালয়ের সেলসেলা সিম্বুকোলগ্রে থেকে গোয়েরাগ্রে পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার দুই লেনের সড়ক, মেঘালয়ের শিলং থেকে ডাউকি পর্যন্ত দুই লেনের পেভড শোল্ডারসহ চার লেনের সড়ক ইত্যাদি। এসব করিডরে জাইকার মোট বিনিয়োগের এক হাজার ৫৯২ কোটি রুপি। করিডোরগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জাইকার বক্তব্য হলো ‘উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মেঘালয়, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী বাংলাদেশের মধ্যে নির্বিঘ্ন আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য ও চলাচল সহজতর করতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর ফলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’

এর বাইরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে কানেক্টিভিটি তৈরিতে আর যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে বা হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে আসামের নয়া ধুবড়ি থেকে মেঘালয়ের ফুলবাড়ি পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু, ত্রিপুরায় কৈলাশহর-খোয়াই মহাসড়ক, মেঘালয়ের তুরা-ডালু হাইওয়ে এবং আসামের শ্রীরামপুর-ধুবড়ি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ।

প্রধানমন্ত্রীর চলমান সফরের মধ্য দিয়ে জাপানের বিগ-বির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন করে গতি সঞ্চার হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘তবে এর জন্য আগে জাপানের কাছ থেকে প্রস্তাব আসতে হবে। তাদের প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে যদি রাজনৈতিকভাবে এটিকে এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে অবশ্যই এ পরিকল্পনায় গতি আসবে।’

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সাময়িক বা স্বল্পমেয়াদী সুবিধা-অসুবিধার দিকে মনযোগ না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল এবং সংযুক্তির বিষয়ে আমাদের মনযোগী থাকতে হবে। জাপান যখন এ পরিকল্পনা নেয়, তখন বাংলাদেশ এ চিন্তার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ অবস্থানে ছিল। বর্তমান বাস্তবতাও সে উপলব্ধিতে কোনো ব্যত্যয় ঘটায়নি। আমাদের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বলছে, কানেক্টিভিটিতে আমাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এখন এ কানেক্টিভিটিটাকে আমরা যতটা সম্প্রসারিত করতে পারবো, সেটি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বঙ্গোপসাগরীয় বা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল যাই হোক না কেন, জাপানকে সহায়ক ভূমিকায় পেলে তা আমাদের জাতীয় স্বার্থের জন্য উপাদেয় হবে। আর বাংলাদেশকে যদি বড় একটি প্রেক্ষাপটের অংশ হতে হয়, তাহলে তো আমাদের অবশ্যই কৌশলী হতে হবে’।

সূত্র: বাংলা স্ট্রিম

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)