খুলনা অফিস
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, আয়ের সঙ্গে অসংগতি এবং সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে খুলনায় পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাসহ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সাবেক এক মহাপরিচালক ও এই কর্মকর্তার স্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। দুদক খুলনার উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সংস্থার সহকারী পরিচালক জাহিদ ফজল বাদী হয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আসামি করে তিনটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া একই দিনে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান বাদী করে সরকারি কর্মকর্তা ও ওই কর্মকর্তার স্ত্রীকে আসামি করে আরও দুটি মামলা দায়ের করেন।
দুদকের অভিযোগ, খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রশীদুজ্জামান এমপি থাকাকালে অসাধু উপায়ে ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ২০৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে রশীদুজ্জামানের নামে এক কোটি সাত লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায় কমিশন, যার বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৪৩ লাখ পাঁচ হাজার ২৩৬ টাকা। এই অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
অন্য এক মামলায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনুর বিরুদ্ধে ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬০৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, শুনুর নামে ৭২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬২ টাকার সম্পদ পাওয়া গেলেও গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩ টাকা। এই মামলায় শুনুর স্বামী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া শেখ ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে এক কোটি ১৭ লাখ ২৯ হাজার ১৩২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফারুকের নামে মোট এক কোটি ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ১৪৯ টাকার সম্পদ রয়েছে।
এদিকে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বিধান কুমার ভাণ্ডারের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীতে ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬৫ টাকার তথ্য গোপন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে ৭৩ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ডলি ভাণ্ডারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, গৃহিণী হয়েও এই নারী স্বামীর দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে নিজের সম্পদ বিবরণীতে এক লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকার তথ্য গোপন করেন এবং স্বামীর অবৈধ সম্পদ নিজ ভোগদখলে রাখেন।