আলিম পরীক্ষায় ২৭ জনের মধ্যে পাস মাত্র ২
শ্রেণিকক্ষে ময়লার স্তূপ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ
লোহাগাড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া সিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদান চলছে। শ্রেণিকক্ষে ধুলাবালি ও ময়লার স্তূপ, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এরই মধ্যে ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন পাস করায় মাদ্রাসার শিক্ষার মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর ব্যস্ততায় নির্ধারিত সময়ে মাদ্রাসায় আসেন না। তবে পরে এসে হাজিরা খাতায় ঠিকই স্বাক্ষর করেন। এমনকি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তৈয়েবের বিরুদ্ধেও মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নবম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে নেন।
মাদ্রাসার আয়া সুলতানা বেগম জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্রেণিকক্ষে সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রাইভেট পড়ান। এই কারণে ওই সময়ে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। ফলে ১২ থেকে ১৪ দিন পরপর শ্রেণিকক্ষে ঝাড়ু দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ চললেও নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার ছয়টি সম্পন্ন হওয়া কক্ষ শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কক্ষগুলোর মেঝে ও বেঞ্চে ধুলাবালি ও ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। এমন নোংরা পরিবেশেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, যা শিক্ষার্থীদের অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ৩৫ জন রয়েছেন, যার মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীই ৬ জন। এত জনবল থাকার পরও শ্রেণিকক্ষের এমন নোংরা পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, সঠিক তদারকি ও জবাবদিহির অভাব এবং ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা বাড়ছে।
এদিকে আলিম পরীক্ষায় মাত্র ২ জন পাস করার ঘটনায় এলাকাবাসী গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু তৈয়েব শ্রেণিকক্ষের ময়লা-আবর্জনার জন্য ভবনের নির্মাণকাজকে দায়ী করেন। তবে আয়া সুলতানা বেগমের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে আয়ার সাথে কথা বলার সময় অধ্যক্ষের আচরণ ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও, তিনি সেটিকে অতিরিক্ত ক্লাসের ফি হিসেবে দাবি করে সরাসরি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং এই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।