বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন মানেই গ্রাম-গঞ্জে ‘ভোট-উৎসব’। কিন্তু এই উৎসব থেকে জাতি বঞ্চিত হয়েছে প্রায় দেড় যুগ। ওই সময়কালে নির্বাচন মানেই ছিল ত্রাসের রাজত্ব, শাসক দলের একচ্ছত্র আধিপত্য আর প্রতিপক্ষকে ভোটের মাঠ থেকে বিতাড়ন।
ফ্যাসিবাদী সেই জমানা পার করে জাতি এখন দেড় বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জমানা থেকে এখন নির্বাচিত সরকারের শাসনাধীন। দীর্ঘ সময় পর এবার হয়তো ফিরবে সেই পুরনো চিত্র—ভোট-উৎসব।
নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, নতুন বছরের প্রথম মাস থেকে শুরু হবে ইউপি নির্বাচন। গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচন শুরুর দিন-ক্ষণ প্রকাশ করেছে।
ইসিঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপ। এই ধাপে মোট এক হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট করতে চায় ইসি।
এ পরিকল্পনা ধরে প্রস্তুতি শুরু হওয়ার তথ্য দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
রোববার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাপে কমবেশি এক হাজার ৫০টি ইউপিতে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ভোটের উপযোগী হয়েছে অনেক ইউপি; এটা বিবেচনায় নিয়ে প্রথম ধাপ কমপ্লিট করছি।’
আবহাওয়া, উপকূলীয় এলাকাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ধাপে ধাপে তালিকা চূড়ান্ত হবে। সাড়ে চার হাজারের সিংহভাগই প্রথম দুই ধাপে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
ইসি সচিব বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বেশির ভাগ ইউপির ভোট শেষ করতে চাই। তৃতীয়, চতুর্থ ও চতুর্থ ধাপে এ সংখ্যা কমবে।’
বৃহস্পতিবারের মধ্যে ইউপির তালিকা চূড়ান্ত হবে বলে জানান ইসি সচিব।
এক উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে একযোগে ভোট হবে। এ জন্য প্রাথমিক তালিকা তৈরি চলছে। যাচাই-বাছাই করতে মাঠ পযায়ে পাঠানো হয়েছে মামলা, সীমানা জটিলতা রয়েছে কিনা। বৃহস্পতিবারের মধ্যে চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান ইসি সচিব।
ভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন সামগ্রী প্রস্তুতের কাজ চলছে, যথাসময়ে সব প্রস্তুত রাখা হবে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি তিন ধরনের ব্যালট পেপার ছাপানোর বিষয়ে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
সাড়ে চার হাজার ইউপির মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ বিবেচনায় পাঁচ ধাপে ভোট করা হবে এবার। জানুয়ারির পর দ্বিতীয় ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে ও পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোট হবে।
ভোটের তারিখ জানিয়ে রাখলেও স্থানীয়ভাবে এসব ইউপির তফসিল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।
তথ্য নিবন্ধন স্কুল পর্যায় থেকে শুরুর ভাবনা
নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধনে ১৬ বছর বয়সীদেরও তথ্য সংগ্রহ করছে নির্বাচন কমিশন। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স হলে তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়ে থাকে।
জন্মের পর থেকে নিবন্ধনের বিধান থাকলেও কবে নাগাদ বর্তমান কমিশন ১৬ বছরের কম বয়সীদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনতে পারবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এখনও হয়নি।
আগামীতে সমন্বিতভাবে প্রাথমিক শ্রেণি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায় কিনা, তা নিয়েও ভাবছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সচিব বলেন, ‘এখন আলোচনা হয়েছে বিষয়টি। প্রাথমিক শিক্ষায় নিবন্ধনের সময় যেসব তথ্য দেওয়া হয় জন্মনিবন্ধন সনদের ওপরে, সে তথ্যটা ইসির ডেটাবেজে যুক্ত করে রাখতে পারলে ভালো হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের তথ্য পেলে পরবর্তী সময়ে বাড়তি বিড়ম্বনা আর হবে না।’
ইভিএম ডিসপোজাল পদ্ধতি কী হবে
বর্তমান ইসির সময়ে ভোটে ইভিএম ব্যবহার না করায় মেশিনগুলোর বিষয়ে কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘ইভিএম আমরা ব্যবহার করবো না। কিন্তু যেসব ইভিএম রয়েছে সেগুলোর ডিসপোজালের পদ্ধতি কী হবে? এর দুটো পার্ট—একটা হলো সংখ্যাগত হিসাব; আরেকটা প্রজেক্ট ডিসকন্টিনিউ করবো; এক্ষেত্রে প্রজেক্ট অবলুপ্ত করার পদ্ধতি কী হবে।’
পরিবেশবান্ধব উপায়ে ডিসপোজাল করতে হবে বলে মন্তব্য করেন সচিব।
তিনি বলেন, ‘এগুলো ডিজপোজাল করতে ফাইনাল স্টকিং শুরু করেছি, এ নিয়ে একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। কী পদ্ধতিতে ডিজপোজাল করবো, সে বিষয়ে সুপারিশ পাওয়ার পর বলতে পারবো।’