সম্পাদকীয়
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দেশের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকার পাশাপাশি আরও এক লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসা চারটি জাহাজের মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। বাড়তি এই সরবরাহ উদ্বেগ কমানোর জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, কর্মজীবী মানুষের মূল্যবান সময় নষ্টের মতো পরিস্থিতি জানান দেয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা একটি জায়গায় একমত। তা হলো, এই পরিস্থির মূল কারণ হলো ‘প্যানিক বায়িং’। মানুষ ভয় পাচ্ছেন যে যেকোনো সময় জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে দেশ। তাই তারা যানবাহনের ট্যাংক ভর্তি রাখতে মরিয়া হচ্ছেন। মানুষের মধ্যে এই আতঙ্ক বা আস্থাহীনতা কেন কাটানো যাচ্ছে না, তা আমাদের বুঝে আসে না।
এ আতঙ্কের দুটি দিক রয়েছে। প্রথমত, সাধারণ মানুষ নিজের ও পরিবারের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান। এই প্রবণতাকে খুবএকটা অস্বাভাবিক বলা সমীচীন হবে না। কিন্তু দ্বিতীয় কারণটি উদ্বেগের, তবে তা প্রতিরোধযোগ্য। সেটি হলো, কিছু অসাধু ব্যক্তি জ¦ালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে বাড়তি মুনাফা লুটতে চাইছেন। সরকার ও প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জ মূলত এটি।
এমন অবস্থায় জরুরি প্রয়োজন হলো জনমনে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করা। সরকারকে আরও জোরেসোরে প্রচার করতে হবে যে, মজুত স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি, সরবরাহও অব্যাহত আছে। দরকার হলে সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে। পাশাপাশি অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। ফিলিং স্টেশনে জ¦ালানি তেল সরবরাহ বাড়িয়ে দিলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। হয়তো তখন এমন দৃশ্য দেখা যেতে পারে যে, ফিলিং স্টেশনে জ¦ালানির কোনো অভাব নেই, কিন্তু ক্রেতার সমাগম ঘটছে না।
জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে কর্মজীবী মানুষ যদি বিপুল সময় নষ্ট করেন, তাহলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ ফল বয়ে আনবে। অতএব, দ্রুতই মানুষকে স্বল্প সময়ে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে যা কিছু করণীয়, তার সবই করা দরকার।