যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যবিপ্রবি হলের খাবার খেয়ে ৭০ ছাত্রী অসুস্থ

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল,২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
যবিপ্রবি হলের খাবার খেয়ে ৭০ ছাত্রী অসুস্থ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের খাবার খেয়ে ৭০ এর অধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তারা যবিপ্রবির ডাক্তার এম আর খান মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসা নেন। তবে এ সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো নারী চিকিৎসককে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে খাবার খেয়ে ভোর চারটা থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টায় মেডিকেল সেন্টার খুললে হলটি থেকে একের পর এক ছাত্রী এসে চিকিৎসা সেবা নিতে থাকেন।

বেলা ১১টা বাজতেই অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খান কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা।

তবে এসময় দায়িত্ব থাকা মেডিকেল ইনচার্জ ডাক্তার মাসুমা নূরজাহান ও নারী আবাসিক চিকিৎসক নুসরত জামানকে পাওয়া যায়নি।

বুধবার রাতে প্রায় ১৬৬ জন শিক্ষার্থী হলের ডাইনিংয়ে খাবার গ্রহণ করেন। যারা শুধু ডাইনিংয়ের খাবার খেয়েছে তাদের মধ্য থেকেই ৭০-এর অধিক শিক্ষার্থী বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও তীব্র শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন।

তবে যারা ডাল খাননি তাদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা কম লক্ষ্য করা গেছে।

ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, দুপুরের রান্না করা খাবার রাতে গরম করে পরিবেশন করা হয়। ফলে অনেক সময় খাবার থেকে দুর্গন্ধ আসে। ডাল ও তরকারিতে মুরগির পালক, চুলসহ বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপাদান পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্লেট ও বাটিও অনেক সময় অপরিষ্কার থাকে। এছাড়া ডাইনিংয়ের আশাপাশে বিড়ালের উপদ্রবও আাছে, যা খাবারে মুখ দেয় মাঝে মাঝে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে ছাত্রীদের জিম্মি করে রাখা হয়। চার মাসের ফিক্সড টোকেন না কাটলে সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। আগে থেকেই মিলের টাকা পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। এছাড়া, খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সময়মতো খাবার পানি সরবরাহ করা হয় না। টাকা দিয়ে নিম্নমানের খাবার খেতে বাধ্য করছে হল প্রশাসন। তাছাড়া, অভিযোগ করলে উল্টো দায়িত্ব এড়িয়ে, যে অভিযোগ করে তার ওপর 'মিল ম্যানেজার' এর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং খাবারের মান খারাপ হওয়ায় অনেকেই টোকেন কাটতে চায় না। কিন্তু তখন রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করা হয়। আবার নিজেরা রান্না করতে গেলেও কুকার নিয়ে সমস্যা করা হয়, নিয়ে গেলে ফেরত দেওয়া হয় না।

যবিপ্রবির ড. এম আর খান মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক তারিক হাসান বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী পেয়েছি, যাদের অসুস্থতার লক্ষণ প্রায় একই রকম। গতকাল (বুধবার) রাতে তারা হলের ডাইনিংয়ে ভাত, মাংস, ভর্তা এবং ডাল খেয়েছিল। পয়জন সম্ভবত সেখান থেকে ছড়িয়েছে। সবাই পেটে ব্যথা, বমি এবং লুজ মোশনে আক্রান্ত। ডায়রিয়াজনিত কারণে অনেকের শরীরে ফ্লুইডের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। যার কারণে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বল্প পরিসরে এবং স্বল্প উপাদানের মাধ্যমে রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিছু রোগীর অবস্থা একটু জটিল আকার ধারণ করেছে, আমরা তাদেরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। তাদের অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে হয়তো এখানে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না, অন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।’

বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট ড. আফরোজা খাতুন বলেন, ‘আমরা কিছুক্ষণ আগে জানতে পারছি ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে। সহকারী হল প্রভোস্টকে পাঠিয়েছি মেডিকেলে। শহরে থাকায় যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। অসুস্থ ছাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা চেষ্টা করছি।’

আবাসিক চিকিৎসক নুসরাত জামান পরবর্তীতে সাংবাদিককে ফোন করে জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন পরে কথা বলবেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)