স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বহুল আলোচিত ইউনুস আলী (৪৭) হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তরিকুল ইসলাম (৪০) ও সবুজ হোসেন (২১) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ইউনুস আলী বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২২ এপ্রিল বিকেলে গাতিপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ডাকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন।
পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি লাশের ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন। তার গলায় শ্বাসরোধের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানে নামে। প্রথমে গোপালগঞ্জ সদর এলাকা থেকে তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটি বলছে, এরপর তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রহমতপুর গ্রাম থেকে সবুজ হোসেন নামে আরেকজনকে আটক করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের অ্যাপাচি আরটিআর (১৫০ সিসি) মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পিবিআই।
পিবিআইয়ের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে, পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক কলহ চরমে পৌঁছালে আনোয়ার ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে ইউনুস আলীকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ফেলে রেখে যায়।
পিবিআই যশোর জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট প্রদান করা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।