যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৪ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৩ শতাংশ

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ৩ মে,২০২৬, ১০:০৯ পিএম
রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৩ শতাংশ

আট মাসের নিম্নমুখী ধারা কাটিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি খাত। তৈরি পোশাক শিল্পের জোরালো প্রবৃদ্ধি, প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং নতুন ক্রয়াদেশ বাড়ার প্রভাবে মাসটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ।

রোববার (৩ মে) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলে দেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই মাসে আয় ছিল ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ।

মাসভিত্তিক হিসাবেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। মার্চে রপ্তানি আয় ছিল ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা এপ্রিল মাসে বেড়ে ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এক মাসের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

তবে সামগ্রিক হিসাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এখনো আগের বছরের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে রপ্তানি খাত। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪০ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। ফলে এ সময়ে আয় কমেছে ২ দশমিক ০২ শতাংশ।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান ভরসা তৈরি পোশাক খাত। জুলাই-এপ্রিল সময়ে এ শিল্প থেকে আয় হয়েছে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এপ্রিলে শুধু পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। এ খাতে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যে আরও দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ৪৩ দশমিক ০১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ২৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যের সবকটিতেই উন্নতি হয়েছে।

পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতেও অগ্রগতি রয়েছে। জুলাই-এপ্রিল সময়ে এ খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৯৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি। এপ্রিল মাসে এ খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে সামগ্রিক আয় কিছুটা কমলেও এপ্রিল মাসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। মাসটিতে এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত এপ্রিল মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে তা মূলত আগের মাসে রপ্তানি কম হওয়ার কারণে। মার্চ মাসে রপ্তানি কমার প্রধান কারণ ছিল ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কারখানাগুলোতে প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং রপ্তানি কম হয়েছে, যার প্রভাব এপ্রিল মাসে এসে যুক্ত হয়েছে অর্থাৎ মার্চ মাসে শিপমেন্ট না হওয়া পন‍্যসমূহ এপ্রিলে শিপমেন্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে কোনো কারখানাতেই অতিরিক্ত অর্ডার আসেনি কিংবা হঠাৎ করে নতুন ক্রেতার চাপও বাড়েনি। চলতি মাস শেষে আবারও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। রপ্তানির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হলে আমাদের জুলাই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, মে মাসের ঈদের প্রভাবের কারণে জুন মাসেও রফতানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন