বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের বাঘারপাড়ার চিত্রা মডেল কলেজের নাম পরিবর্তন ও অ্যাকাডেমিক ভবন স্থানান্তর করা হচ্ছে। নানা সংকটে জর্জরিত প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব রক্ষায় ১০১ শতক জমি দান করলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী রোস্তম আলী মোল্যা।
এ উপলক্ষে রোববার সকালে নতুন ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ কহিনুর আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক রোস্তম আলী মোল্যা। এ সময় কলেজের পক্ষ থেকে তাকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
প্রভাষক রুস্তম আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবার রহমান ও আব্দুর রউফ খান, কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আব্দুল হালিম হারু বিশ্বাস, সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জহুরপুর খবির-উর-রহমান কলেজের অধ্যাপক লিয়াকত আলী শিকদার, সীমাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, বন্দবিলা বিজয় চন্দ্র রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মণ্ডল, চতুরবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ফিরোজ বিশ্বাস, যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ও চিত্রা মডেল কলেজের সাবেক সভাপতি শামীম আকতার, প্রেমচারা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান ও প্রভাষক লিয়ন রহমান।
কলেজের অধ্যক্ষ কহিনুর আলম জানান, ২০০৩ সালে চিত্রা মডেল কলেজের যাত্রা শুরু। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ২০০৯ সালে পাঠদান, ২০১২ সালে অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি ও ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হয়।
তবে কলেজের নামে এক একর অখন্ড জমি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিলুপ্ত করতে একটি চক্র আদাজল খেয়ে লাগেন। তারা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও মামলা করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী শামীম আকতার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে জরাজীর্ণ কলেজটির উন্নয়নে ব্যক্তিগত ও পরিবারের পক্ষ থেকে ১৮ লাখ টাকা অনুদান দেন।
আর জমি সমস্যা নিরসনে অভিভাবক, এলাকাবাসী ও সুধীজনদের নিয়ে কয়েক দফা মতবিনিময় সভা করেন। এ বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় কলেজের অস্তিত্ব রক্ষায় শামীমের চাচা আমেরিকা প্রবাসী রোস্তম আলী মোল্যা ও তার পরিবার ১০১ শতক (১ একর ১ শতক) জমি দান করেছেন।
সবার সম্মতিক্রমে প্রতিষ্ঠানটি 'রোস্তম আলী মোল্যা চিত্রা মডেল কলেজ' নামকরণ করা হচ্ছে।