যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ১০ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কৃষি প্রণোদনার টাকা পকেটে: মহম্মদপুরে কর্মকর্তাদের কারণে ব্যহত হলুদ চাষ

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : রবিবার, ১০ মে,২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
কৃষি প্রণোদনার টাকা পকেটে: মহম্মদপুরে কর্মকর্তাদের কারণে ব্যহত হলুদ চাষ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের হলুদ বীজ বিতরণের বদলে নামমাত্র নগদ অর্থ দিয়ে দায় সারার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী বীজ বিতরণের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কৃষকদের পকেটে গেছে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় হলুদ চাষ।

​সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জনপ্রতি ৬৫০০ টাকা মূল্যের ১০০ কেজি উন্নত জাতের হলুদ বীজ পাওয়ার কথা ছিল কৃষকদের। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষকদের কাউকেই বীজ দেওয়া হয়নি। তার পরিবর্তে অনেককে ৩৫০০ টাকা এবং কাউকে ৪৫০০ টাকা দিয়ে বিদায় করা হয়েছে।

​মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুস্মিতা বিশ্বাস জানান, তার ইউনিয়নে দুইজন কৃষক হলুদ প্রণোদনা পেয়েছেন এবং তাদের ৩৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পিযুষ রায় স্বীকার করেছেন যে, বিধি মোতাবেক হলুদ বীজ দেওয়ার কথা থাকলেও কৃষকদের নগদ ৪৫০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি প্রণোদনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহা. শাহানুর জামান এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি হলুদ বিতরণের বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন।

​এদিকে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে কৃষি অফিস থেকে সুবিধাভোগী কৃষকদের 'হলুদ পেয়েছেন' বলে শিখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ কৃষি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারীগণ ইতিপূর্বেই নগদ অর্থ প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

​মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাজুল ইসলাম প্রথম দিকে দাবি করেন, কৃষকদের সাথে ফোনে কথা বলে তিনি হলুদ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

তবে যখন তাকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার 'নগদ টাকা প্রদান'-এর স্বীকারোক্তির কথা জানানো হয়, তখন তিনি সুর বদলান। তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, বীজের পরিবর্তে সামান্য টাকা হাতে পাওয়ায় অনেক কৃষকই এবার হলুদ রোপণ করেননি। উন্নত জাতের হলুদের পরিবর্তে সামান্য নগদ অর্থ কৃষকদের উপকারে আসার চেয়ে প্রকল্পের হরিলুটেই বেশি সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি বরাদ্দের বিশাল একটি অংশ কোথায় গেলো এবং কারা এই অনিয়মের সাথে সরাসরি জড়িত, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষকদের দাবি, প্রকৃত অনিয়ম তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)