স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া একটি গাড়ি নিয়ে ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশকে জড়িয়ে হীরা খাতুনের দেওয়া বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে অভিহিত করেছে যশোর জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়।
হীরা খাতুন গত সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন যে, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার 'রেড ওয়াইন' রঙের সিএইচআর টয়োটা হাইব্রিড গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-গ-২১-৪১১৩) অবৈধভাবে আটকে রেখেছে।
কিন্তু প্রেস ব্রিফিংয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, গাড়িটি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নয়, বরং পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, গত ২৭ মার্চ যশোর কোতোয়ালি থানার সামনে ‘রিচম্যান’ শো-রুমের বিপরীতে দীর্ঘক্ষণ একটি গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। রাত সোয়া ৮টার দিকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জিডিমূলে বেওয়ারিশ হিসেবে গাড়িটি জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে হীরা খাতুন গাড়িটির মালিকানা দাবি করলে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করে গাড়ি নেওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে পুলিশের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
সোমবার ঢাকার ক্র্যাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন দাবি করেছিলেন, তার স্বামী আলী হাসানকে স্বর্ণ পাচারকারী একটি চক্র ১৪ কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগে মানসিক নির্যাতন করে আসছিল, যার ফলে তিনি মারা যান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে অপহরণ করে গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। গাড়িটি পরবর্তীতে যশোর কোতোয়ালি থানায় জমা দেওয়া হলেও পুলিশ এখন সেটি ফেরত দিচ্ছে না।
জেলা পুলিশের ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গাড়িটি আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের আদেশের মাধ্যমে বুঝে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও হীরা খাতুন তা না করে পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। হীরা খাতুনের স্বামী আলী হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলা তদন্তাধীন ছিল বলেও জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান।