কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ক্ষেতের আইলে রাত কাটলো পুশইনচেষ্টার শিকার ১২ নারী-শিশু ও পুরুষের।
এদের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাথানপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াসেদ আলীর ছেলে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), বড় ছেলে শিহাদ (১৭), মেজো ছেলে ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ (২)।
এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। তারা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তবে এই দাবির পক্ষে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
তবে পুশইচেষ্টার একদিন পেরিয়ে গেলেও তাদের বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কয়েক দফায় পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাতে সাড়া দেয়নি।
শুক্রবার ভোর পাঁচটায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে সে চেষ্টা প্রতিহত করেন বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয় বাসিন্দা নীল চাঁদ বলেন, দুই দেশের সীমান্ত পিলার ১৪৮/৩ এস থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডের ৫০ গজের মধ্যে একটি পাটক্ষেতের আইলে শিমুলগাছের তলায় বসে আছেন ১২ জন। রোদে পুড়ে তারা ক্লান্ত। নারীরা কাঁদছেন, শিশুরা ক্ষুধার্ত। এর মধ্যে দশ মাস থেকে চার বছরের শিশু আছে। এক নারী অন্তঃসত্ত্বা। তিনি কৌশলে কিছু বিস্কুট, পাউরুটি, দুধ, কলা ও পানি তাদের কাছে দিয়ে এসেছেন। রাতেও খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।
এ বিষয়ে আজ শনিবার সকালে বিজিবির প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শূন্যরেখার ভারতীয় ৫০ গজের মধ্যে ওই ১২ জন পাটক্ষেতের আইলে এখনো বসে আছেন। সেখানেই তাদের রাত কেটেছে। শনিবার পতাকা বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা আছে। দেখা যাক কী হয়।’
তিনি জানান, শুক্রবারও দু’বার পতাকা বৈঠকের সময় নির্ধারিত ছিল। তবে তাতে কোনো সাড়া দেয়নি বিএসএফ।
বিজিবি বলছে, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে আছেন তাদের সদস্যরা। সেখানে বাংলাদেশ প্রান্তে মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও পুশইন ঠেকাতে সহযোগিতা করছেন।