যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বিশ্বকাপের টিকিট যেন সোনার হরিণ

তসলিম শিমুল

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন,২০২৬, ১২:০০ এ এম
বিশ্বকাপের টিকিট যেন সোনার হরিণ

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগ, উন্মাদনা ও উৎসব। তবে ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য নিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাধারণ মানুষের জন্য মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন ক্রমেই দূরের হয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির একটি টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে সাত হাজার ৫৯৮ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকা ধরে) এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় নয় লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মূল্যের একটি টিকিট কিনতে একজন গড় বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানি নাগরিককে তার প্রায় ২০ মাসের সম্পূর্ণ আয় সঞ্চয় করতে হবে। ফলে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ফাইনাল ম্যাচ মাঠে বসে উপভোগ করা কার্যত নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে টিকিটের এই আকাশছোঁয়া মূল্য ফুটবলকে সাধারণ মানুষের খেলা থেকে ধীরে ধীরে একটি বিলাসবহুল বিনোদনে পরিণত করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

গত কয়েক দশকে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের মূল্য যেভাবে বেড়েছে, তা নজরকাড়া।

১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপ: সর্বোচ্চ টিকিট মূল্য ছিল প্রায় ৪৭৫ ডলার

২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপ: বেড়ে হয় ৬৬০ ডলার

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ: সর্বোচ্চ মূল্য ছিল প্রায় এক হাজার ৬০৬ ডলার

২০২৬ বিশ্বকাপ: তা এক লাফে পৌঁছেছে সাত হাজার ৫৯৮ ডলারে

এই মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুধু ফাইনাল নয়, গ্রুপ পর্ব ও নকআউট পর্বের জনপ্রিয় ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে তিনটি দেশের মধ্যে যাতায়াত ব্যয়, আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া, হোটেল খরচ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়।

সব মিলিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, বিশ্বকাপ এখন আর কেবল ফুটবল উৎসব নয়; এটি ক্রমশ করপোরেট অতিথি, উচ্চ আয়ের দর্শক এবং ধনী পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতায় পরিণত হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য টেলিভিশন ও ডিজিটাল সম্প্রচারই বিশ্বকাপ উপভোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে থাকছে।

মাঠের গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটানোর যে স্বপ্ন একসময় অনেকের নাগালে ছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সাধারণ মানুষের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)