স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিকাশমান মিডিয়া আউটলেট সুবর্ণভূমির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রাণের ছোঁয়ায় উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল। শহর যশোরকে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা ছাড়াও শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারীদের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল মিডিয়া হাউজের নতুন কার্যালয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ফিতা কেটে নতুন কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় দেওয়া বক্তৃতায় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সুবর্ণভূমি দায়িত্বশীলতার সাথে সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরতে সক্ষম হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রেল রোডের কবির টাওয়ারের পঞ্চমতলায় সুবর্ণভূমির নতুন কার্যালয়ের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কার্যত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, সাংবাদিক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানসমূহের নেতৃস্থানীয়রা এসেছিলেন সুবর্ণভূমির নতুন অভিযাত্রায় শুভেচ্ছা জানাতে।
মিডিয়া আউটলেটটির পৃষ্ঠপোষক এজাজ উদ্দীন টিপু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্পাদক আহসান কবীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরো বলেন, সংবাদপত্র যখন তার দায়িত্বশীলতা বজায় রাখে, তখনই সমাজের অসঙ্গতিগুলো দূর করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, সংবাদপত্র কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের দর্পণ। একটি সৎ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, যশোরের মেধাবী ও গুণী সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা সংবাদপত্রগুলো ইতিমধ্যে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, গণমাধ্যম যদি কখনো তার নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয় কিংবা স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে, তাহলে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
অতীতের কিছু অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরো সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যম যদি জাতির স্বার্থের পরিপন্থি ন্যারেটিভ তৈরি করে, তা দুঃখজনক। বিগত শাসনামলে আমাদের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। আশা করি, এখনকার গণমাধ্যমগুলো অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নেবে।’

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জনগণের আস্থাই একটি সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই হওয়া উচিত গণমাধ্যমের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি সুবর্ণভূমির কাছে আশা প্রকাশ করেন, এই গণমাধ্যম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কথা তুলে ধরবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমটিতে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, সেই বিচারে সুবর্ণভূমির খারাপ করার কোনো সুযোগ নেই। এটা ভালো করবে তা-ই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক হবে যদি খারাপ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, র্যাব-৬ যশোরের কমান্ডার মেজর রাব্বি, বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, লোকসমাজের প্রকাশক শান্তুনু ইসলাম সুমিত এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন দড়াটানা মাদরাসার মুহাদ্দিস ও দড়াটানা জামে মসজিদের খতিব মুফতি আমানউল্লাহ কাসেমী।
পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুবর্ণভূমির বার্তাপ্রধান সরোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে সুবর্ণভূমির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন পৃষ্ঠপোষক এজাজ উদ্দীন টিপু ও সম্পাদক আহসান কবীর।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা, পিআইবি খুলনার পরিচালক এস এম কবির, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার সাজমুস সাদিক রাসেল, প্রখ্যাত অভিনেতা সমু চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু ও শহিদুল বারী রবু, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক তানভিরুল ইসলাম সোহান, জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজা বুলবুল কলি, নগর বিএনপির সভাপতি চৌধুরী রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদ, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মাসুম, জয়তী সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, উদীচী যশোরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, জাতীয়বাতাবাদী যুুবদলের জেলা আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও চাঁদেরহাট যশোরের প্রতিষ্ঠাতা ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, চারুপীঠ যশোরের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ, কিংশুক সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল কবির হোসেল, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা কামরুল হক লিকু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা সমন্বয়ক রাশেদ খান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর দাস রতন, বৈষম্যবিরোধী সনাতন সমাজের অখিল চক্রবর্তী, আরএন রোড সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোস্তফা গোলাম কাদের, শব্দ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক মাসউদ জামান, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এম আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার কেন্দ্রীয় নেতা নিজাম উদ্দিন অমিত, বাংলাদেশ যুবমৈত্রীর জেলা সভাপতি অনুপ কুমার পিন্টু, জাতীয় যুব জোটের যশোর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ।
আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান, দৈনিক রানারের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কবিরুল আলম দিপু, দৈনিক মুক্তাক্ষর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজল, সুবর্ণভূমির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আইয়াজ উদ্দিন রিপন, দৈনিক সমাজের কাগজের সম্পাদক সোহরাব হোসেন, দৈনিক বাংলার ভোর সম্পাদক সৈয়দ শামসুদ্দিন জ্যোতি, দৈনিক সত্যপাঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এইচ আর তুহিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা জান্নাতুল ফাতেমা অনন্যা, আশালতাসহ তরুণ নেতৃবৃন্দ, যশোর আইটি পার্ক ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মনসুর আলী, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহজালাল, কম্পিউটার ব্যবসায়ী সমিতির যশোর জেলা চেয়াম্যান ফারুক জাহাঙ্গীর আলী টিপু।