মেহেরপুর প্রতিনিধি
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনর্খনন করা হবে। নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙনরোধে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে কাজলা নদীর জিয়া খাল খনন ।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই কর্মসূচির সুফল যেন প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছায় এবং নদী খনন যেন একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, মাছচাষ, এবং জলাবদ্ধতা দূর করা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে মেহেরপুর সদর উপজেলার বলিয়ারপুর গ্রামের কাজলা নদীর সংযোগস্থল পাড়ের মাটি কেটে জিয়া খাল খননের উদ্বোধন করেন। পরে খালপাড়ে তিনি একটি বকুল গাছের চারা রোপন করেন।
বলিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী।
আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছিলেন, ‘আমরা মেগা প্রজেক্ট করবো না। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে প্রেসিডেন্ট জিয়ার মতো গ্রামের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেবো।’ যার কারণে খাল খনন কর্মসূচিকে নতুন করে উন্নয়ন বিপ্লবে স্থান দিয়েছি। ইতোমধ্যে দিনাজপুরের কাহারোল থেকে খাল খনন কর্মসূচি কাজ শুরু করেছি। দেশের ৫৪টি জেলায় এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনর্খনন করা হবে।”
মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচির সুফল যেন প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছায় এবং নদী খনন যেন একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। খাল খননের মাধ্যমে কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, মাছচাষ, এবং জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে যতগুলো কৃষিভিত্তিক আন্দোলন হয়েছে, খাল খনন কর্মসূচি ছিল একটি বিপ্লব ও জনপ্রিয় কর্মসূচি। ১৯৭৭ সালে নিজস্ব চিন্তা ও দূরদর্শিতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, মেহেরপুর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ভৈরব ও কাজলা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে সুইচগেট নির্মাণ এবং খাল পুনর্খননের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, এলাকার সার্বিক চিত্র বদলে যাবে।