ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
দীর্ঘ আট বছর পর ঘোষিত ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অসন্তোষ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
কাঙ্ক্ষিত পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ক্ষোভ, কমিটির শীর্ষ তিন নেতার পদত্যাগ এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিল-সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
এতে মো. ইমরান হোসেনকে সভাপতি, মো. সাইদুর রহমান শাহেদকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং শাহরিয়ার রাসেলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এছাড়া আব্দুস সালামকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বখতিয়ার মাহমুদকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মেহেদী হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ত্যাগী ও রাজপথের সক্রিয় কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে গত শনিবার (১৬ মে) বিকেলে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা পায়রা চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ এনে কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। একই সমাবেশ থেকে রাজপথে কার কত ত্যাগ তা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নবঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান শাহেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার মাহমুদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এরই কাউন্টার হিসেবে গত রোববার (১৭ মে) বিকেলে নবগঠিত কমিটির সভাপতি ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলের নেতৃত্বে শহরে এক বিশাল আনন্দ মিছিল বের করা হয়। সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পায়রা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে সভাপতি ইমরান হোসেন পদত্যাগকারী নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত আন্দোলনের কঠিন সময়ে যখন তৎকালীন সভাপতি গ্রেপ্তার হন, তখন মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে আমিই জেলা ছাত্রদলের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আজ যারা বড় বড় কথা বলছেন, সেদিন আপনাদের আদর্শের জায়গা কোথায় ছিল?’
এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা জানান, কেন্দ্র সংসদ তদন্তসাপেক্ষেই এই কমিটি দিয়েছে। দল বড় হওয়ায় পদের প্রত্যাশী অনেকেই ছিলেন এবং কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন।
তবে তারা যেহেতু দলের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলছেন না, তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে সবার সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।