ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে ভোররাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় ও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল-ইমরান নিজের ফেসবুক আইডিতে এক মিনিট ২৮ সেকেন্ডের এই মিছিলের ভিডিওটি পোস্ট করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘যেখান থেকে থেমে ছিলাম, সেখান থেকে আবার এগিয়ে চলা।’
গত বছরের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে আল-ইমরানকে এলাকায় প্রকাশ্যে না দেখা গেলেও, মূলত তার নেতৃত্বেই এই ঝটিকা মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগ নেতা আল-ইমরানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ সময় পর শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্যে মিছিল করার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সূর্যোদয়ের আগেই শহরের পায়রা চত্বর এলাকায় একটি ব্যানার নিয়ে আকস্মিকভাবে মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলের সামনের সারিতেই ছিলেন আল-ইমরান এবং তার সঙ্গে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলটি পায়রা চত্বর থেকে শুরু হয়ে সরকারি কেসি কলেজ এলাকায় গিয়ে শেষ হতে দেখা যায়।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের উচ্চস্বরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘প্রহসনের ট্রাইব্যুনাল’ বন্ধ করা এবং আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শোনা যায়। মিছিল চলাকালে পায়রা চত্বর এলাকায় কয়েকটি হাইএস মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত আনা-নেওয়ার জন্য এসব যানবাহন ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক দেখা গেছে। সেখানে সুজন সরসা নামের এক আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ঝিনাইদহের বুকে প্রথম জয় বাংলা স্লোগান।’
এই মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর হঠাৎ প্রকাশ্যে এমন কর্মসূচি আয়োজনের পেছনে কী বার্তা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে কীভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলো তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, ঝিনাইদহের এই স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ছাত্রলীগের মিছিলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইমরান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে হঠাৎ করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ভিডিও দেখে আসামিদের শনাক্ত ও তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।