স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
গেটপাস (কারপাস) ইস্যু নিয়ে কাস্টমসের নতুন নির্দেশনা ঘিরে সৃষ্ট জটিলতায় বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি বাণিজ্য টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে, যার একটি বড় অংশে রয়েছে বাংলাদেশের শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা গেটপাস ইস্যু বন্ধ রাখায় ভারত থেকে নতুন কোনো আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা কোনো অবৈধ পণ্যের দায় না নিয়েই ভারতীয় ট্রাকের গেটপাস ইস্যু করে আসছিলেন। তবে কাস্টমসের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ট্রাকে কোনো অনিয়ম বা অবৈধ পণ্য পাওয়া গেলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিকেই নিতে হবে এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এর কোনো দায় নেবে না। এ অন্যায্য শর্তের প্রতিবাদে তারা গেটপাস ইস্যু বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ভারতীয় রপ্তানিকারক ও ট্রাকচালকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পণ্যের ভেতর যদি কোনো অবৈধ মালামাল থাকে, তবে তার দায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বা স্টাফদের ওপর চাপানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। অনেক সময় আমদানিকারক নির্দিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে কাজ করেনও না। তা ছাড়া, পথিমধ্যে ভারতীয় কোনো চালক ব্যক্তিগতভাবেও অবৈধ পণ্য বহন করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের দায়ী করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেই স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন কাজ বন্ধ রেখেছে, যা টানা দুই দিন ধরে আমদানি কার্যক্রম স্তব্ধ করে রেখেছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, কাস্টমসের কারপাস/গেটপাস ইস্যু বন্ধ থাকায় শনিবার থেকে ভারত থেকে কোনো আমদানিকৃত পণ্যের ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি। রোববার দুপুর পর্যন্তও নতুন কোনো ট্রাক সীমান্ত পেরিয়ে আসেনি। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি কার্যক্রম এবং বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।