স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
‘শোক, তাপ ও অমঙ্গল দূর করে শুভ ও আলোর দিশারী অসুরবিনাশিনী’ দুর্গা দেবীকে মর্ত্যে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যশোরে উদযাপিত হয়েছে শুভ মহালয়া।
সনাতন ধর্মীয় আচারানুষ্ঠান, বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ, তিলতর্পণ ও চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের এই পুণ্যলগ্নে যশোরের ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ, জমে উঠেছে পূজার বাজারও।
শনিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই যশোরের বিভিন্ন মন্দির, আশ্রম ও জলাশয়ে প্রয়াত পিতৃপুরুষদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় ভক্তরা তিল, তুলসী ও জল দিয়ে তর্পণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।
যশোর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের পুকুরে ভোর থেকেই শুরু হয় তিলতর্পণ, যেখানে পৌরহিত্য করেন কালীপদ চক্রবর্তী। শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ির উদ্যোগে কালেক্টরেটের উত্তরপাড়ে আয়োজিত তর্পণে পৌরহিত্য করেন উজ্জ্বল লাহিড়ী।
এছাড়া, সনাতন ধর্মসংঘ যশোরের উদ্যোগে পৌর উদ্যান পুকুরে পূজা, চণ্ডীপাঠ, আলোচনা সভা ও পার্বণশ্রাদ্ধের আয়োজন করা হয়। এতে পৌরহিত্য করেন সংঘের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অখিল কুমার চক্রবর্তী।
এদিকে, যশোরের বাঘারপাড়ায় মহালয়া উপলক্ষে এক জমকালো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ এবং কালুডাঙ্গা হাজরাতলা শিব মন্দিরের যৌথ সহযোগিতায় মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আয়োজন ‘দেবী মাহাত্ম্যম্: শতকণ্ঠে মাতৃ আবাহন’।
প্রদীপ প্রজ্বালন, শঙ্খনাদ, শ্রীমদ্ভগবদগীতা ও হরিলীলামৃত পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এরপর পরিবেশিত হয় মহিষাসুরমর্দিনী, ভক্তিপূর্ণ চণ্ডীপাঠ, শিব তাণ্ডব স্তোত্রম্, নৃত্য ও সংগীত। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল প্রায় শতকণ্ঠে সমবেত চণ্ডীপাঠ, যা পুরো এলাকায় এক আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।
হাজরাতলা শিব মন্দিরের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার স্বামীবাগ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য।
রবীন অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক রানারের ডেপুটি এডিটর প্রণব দাস, চ্যানেল ওয়ান নিউজের জেলা প্রতিনিধি ইন্দ্রজিৎ রায়, প্রভাষক সুমন কুমার দাস এবং সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের জেলা সভাপতি বিদ্যুৎ দে। গীতি ও নৃত্য পর্বে স্থানীয় একঝাঁক তরুণ শিল্পী অংশ নেন।
মহালয়ার এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে হাজরাতলা শিবমন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। মন্দির চত্বরে বসা গ্রামীণ মেলা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।