সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরাকে আবারও বদলি করা হয়েছে। সর্বশেষ তাকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে, পাশাপাশি তালা উপজেলায় প্রশাসনিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানা গেছে, ইউএনও হোসনে আরাকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য রাজশাহী বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল জারি হওয়া ওই প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন স্বাক্ষর করেন।
এর আগে ঝিনাইদহে দায়িত্ব পালনকালে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে ইউএনও হোসনে আরার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বারবার বদলির মুখে পড়তে হয়েছে।
অডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের অগ্রগতি স্পষ্ট হয়নি।
এ ঘটনার মধ্যেই কয়েক দিন আগে তাকে ঝিনাইদহ থেকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বদলি করা হয়। কিন্তু সেখানে যোগদানের মাত্র ২০ দিনের মাথায় আবারও বদলির আদেশ আসায় প্রশাসনের ভেতরে ও স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তালা উপজেলায় যোগদানের পর হোসনে আরা প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সুধীজনদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সভা শেষ হওয়ার পরপরই তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘন ঘন ইউএনও পরিবর্তনের কারণে উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব বুঝে ওঠার আগেই বদলি হয়ে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা থাকছে না। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীরগতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তিতে ভোগান্তি বাড়ছে।
এছাড়া মতবিনিময় সভা নিয়েও কিছু অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যা স্থানীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও হোসনে আরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।