স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে আছে গৌরব, নেতৃত্ব এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি। একসময় এই জার্সি গায়ে ফ্রান্সকে বিশ্বসেরা করেছিলেন জিনেদিন জিদান। আজ সেই জার্সির উত্তরসূরি কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন- জিদান পেরেছেন, এমবাপ্পে কি পারবেন?
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নিজের দেশের মাটিতে ফ্রান্সের সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন জিনেদিন জিদান। পুরো আসরে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানোর পর ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে দুটি দুর্দান্ত হেডে গোল করে ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে জিতিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন। সেই রাতেই তিনি হয়ে ওঠেন ফ্রান্সের জাতীয় নায়ক।
আট বছর পর ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে আবারও জিদানের নেতৃত্বেই ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। ইতালির বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়েও দেন তিনি। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর আবেগের বশে মাথা দিয়ে আঘাত করায় তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। বিশ্বকাপ ট্রফির পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে তার সেই বিদায়ের ছবি আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম করুণ দৃশ্য। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে শিরোপা হারায় ফ্রান্স।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে প্রজন্ম, কিন্তু বিশ্বকাপের চাপ এবং প্রতিপক্ষের মানসিক লড়াইয়ের কৌশল বদলায়নি। এবারের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পেকে বারবার উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি সংযম হারাননি। প্রতিপক্ষের ফাঁদে পা না দিয়ে নিজের খেলায় মনোযোগ রেখেছেন এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এখন ফ্রান্সের সামনে সেমিফাইনালের কঠিন পরীক্ষা। আর মাত্র একটি জয়ই তাদের নিয়ে যেতে পারে বিশ্বকাপের ফাইনালে। এমন সময়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসছে ফ্রান্সের দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা। জিদান ১৯৯৮ সালে দেশকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। এমবাপ্পেও ইতোমধ্যে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দিয়েছেন, কিন্তু এবারের মিশন ভিন্ন- নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আবারও বিশ্বকাপের শিরোপার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া।
সেমিফাইনালের মঞ্চে এমবাপ্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু গোল করা নয়, নিজের আবেগ, নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখা। কারণ বড় ম্যাচে প্রতিপক্ষের লক্ষ্য থাকে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে বিচলিত করা।
জিদান পেরেছিলেন ফ্রান্সকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে। এখন প্রশ্ন, এমবাপ্পেও কি পারবেন একইভাবে ফ্রান্সকে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে নিতে?
উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা একটাই- লড়াই হোক দক্ষতা, কৌশল এবং সুন্দর ফুটবলের; ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানির নয়। কারণ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন তারাই, যারা প্রতিভার পাশাপাশি সংযম ও নেতৃত্বেরও সর্বোচ্চ পরিচয় দেন।