যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

নেই বিশ্বজনীনতা, চ্যাম্পিয়নশিপ সীমাবদ্ধ পুরনোদের মধ্যেই

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুলাই,২০২৬, ০৪:০০ পিএম
নেই বিশ্বজনীনতা, চ্যাম্পিয়নশিপ সীমাবদ্ধ পুরনোদের মধ্যেই

বিশ্বকাপ মানেই ৯০ মিনিটের যুদ্ধ। বিশ্বের সব প্রান্তের দেশ খেলে এই মেগা টুর্নামেন্টে। এ বছর আবার ৩২ দলের টুর্নামেন্টকে বাড়িয়ে ৪৮ দল করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিশ্বকাপ কতটা বিশ্বজনীন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কারণ এবারও বিশ্বকাপে নতুন চ্যাম্পিয়নের দেখা মিলছে না। রবিবার সুইজারল্যান্ড ছিটকে যেতেই সে সম্ভাবনা শেষ। সেমিফাইনালের চার দলই অতীতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

আট দলের দখলেই বিশ্বকাপ
এ পর্যন্ত ২২ বার বিশ্বকাপের আসর বসেছে। তাতে মোটে আটটি দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দেশ ইউরোপের, তিনটি লাতিন আমেরিকার।

এশিয়া-আফ্রিকার মতো এত বৃহৎ জনসংখ্যার মহাদেশগুলোর কোনো দলই এ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এমনকী এই দুই মহাদেশের কোনো দেশ এ পর্যন্ত ফাইনালেও পৌঁছাতে পারেনি, তা হতে পারেনি রানার্সআপও। আফ্রিকার কোনো কোনো দেশ মাঝে মাঝে চমক দেখায়। কিন্তু এশিয়ার দৌড় তারও আগে শেষ হয়ে যায়।

একনজরে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলগুলো

ব্রাজিল: পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন

বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। পেলে, জিকোদের যুগ থেকে রোনালদিনহো, রোনালদো পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘদিন দাপট দেখিয়েছে সাম্বা বাহিনী।

১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে বিশ্বজয় করেছে তারা। তবে ২০০২ সালের পর সেই দাপট কিছুটা ফিকে। শেষবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আর ফাইনালেও উঠতে পারেনি ব্রাজিল।

জার্মানি: চারবার চ্যাম্পিয়ন

সফল দলের তালিকায় দ্বিতীয় নাম জার্মানি। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই এই মেগা টুর্নামেন্টে দাপট দেখিয়ে আসছেন জার্মানরা। গার্ড মুলার, বেকেনবাওয়ার থেকে ক্লোসে পর্যন্ত জার্মানদের কিংবদন্তির সংখ্যা কম নয়।

১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে বিশ্বজয় করেছে জার্মানি। এর মধ্যে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ৭-১ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচ ভোলার নয়। তবে শেষ তিন বিশ্বকাপে জার্মানির পারফরম্যান্স আশানুরূপ নয়।

ইতালি: চারবার চ্যাম্পিয়ন

জার্মানির মতোই চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে মিচেল প্লাতিনি, দেল পিয়েরো, পির্লোদের দেশ ইতালি। ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। সে দেশের খেলার আলাদা ঘরানা রয়েছে- রক্ষণাত্মক অথচ সুন্দর ফুটবল।

যদিও শেষ দুই দশকে ইতালিয়ান ফুটবল চরম দুর্দশায়। শেষ তিন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গাই পায়নি তারা।

আর্জেন্টিনা: তিনবার চ্যাম্পিয়ন

এ পর্যন্ত তিনবার বিশ্বকাপ পেয়েছে আর্জেন্টিনা- ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২। এর মধ্যে ১৯৮৬ এর বিশ্বকাপ পরিচিত মারাদোনার টুর্নামেন্ট হিসেবে। আর ২০২২ পরিচিত লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ হিসেবে।

মেসির সামনে এ বছরও সুযোগ রয়েছে বিশ্বজয় করার। আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টের সেমিতে। এবার জিততে পারলে কাপ জয়ে জার্মানি এবং ইতালিকে ছুঁয়ে ফেলবে আর্জেন্টিনা।

ফ্রান্স: দুইবার চ্যাম্পিয়ন

গত প্রায় এক দশকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দেশ ফ্রান্স। ২০১৮ বিশ্বকাপ ফ্রান্স জেতে। ২০২২ সালে তারা রানার্সআপ। এ বারও সেমিফাইনালে খেলছে টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট হিসেবে।

এর আগে ১৯৯৮ সালে জিনেদিন জিদানের আমলে বিশ্বজয়ী হয় ফরাসিরা। ২০০৬ সালে রানার্সআপও হয়। জিদানের সেই লিগ্যাসি বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এমবাপ্পেরা।

উরুগুয়ে: দুইবার চ্যাম্পিয়ন

আরও একটি দেশের নামের পাশে দুইবার বিশ্বজয়ের কৃতিত্ব রয়েছে। সেটা উরুগুয়ে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই মারাকানা স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছিল উরুগুয়ে। ফের ১৯৫০ সালে উরুগুয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

কিন্তু তারপর দীর্ঘ সাত দশক সেভাবে বিশ্ব ফুটবলে সাড়া ফেলতে পারেনি তারা। শেষবার ২০১০ সালে দিয়েগো ফোরলানের উরুগুয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল।

ইংল্যান্ড ও স্পেন: একবার করে চ্যাম্পিয়ন

এই দুই দলের নামের পাশে একবার করে বিশ্বজয়ের কৃতিত্ব রয়েছে। ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালে বিশ্বজয়ের খেতাব অর্জন করে। আর স্পেন ২০১০ সালে।
এবারও এই দুই দলের বিশ্বজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেমিফাইনালে স্পেন খেলবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। আর ইংল্যান্ড খেলবে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে।

সেমিফাইনাল: ইতিহাস বনাম ইতিহাস

তাই এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে নতুন কোনো দলের দেখা মিলছে না। লড়াইটা হবে পুরনো পরাশক্তিদের মধ্যেই।

ব্রাজিলের পাঁচটি ট্রফির রেকর্ড আপাতত অক্ষতই থাকছে। কারণ চারবার ট্রফি জেতা জার্মানি ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে। আর ইতালি তো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গাই করতে পারেনি। তাহলে কি আর্জেন্টিনা ট্রফি জিতে নিয়ে জার্মানি ও ইতালির কাতারে উঠে আসবে? নাকি ফ্রান্স ছুঁয়ে ফেলবে আর্জেন্টিনাকে? অথবা স্পেন ও ইংল্যান্ড দ্বিতীয় বারের মতো ট্রফি হাতে নিয়ে বিশ্বফুটবলের পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের আরও দৃঢ় অবস্থানে নিতে পারবে? উত্তর মিলবে মাঠে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)