তসলিম শিমুল
বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি, ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় দুই দল এবং দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও স্পেন এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে। ১৪ জুলাই টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়াম (এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম)-এ অনুষ্ঠিত হবে এই মহারণ। এই লড়াইয়ে যে দল জিতবে, তারা ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার টিকিট নিশ্চিত করবে।
টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে লে ব্লুরা। ১৬টি গোল করার পাশাপাশি হজম করেছে মাত্র দুটি, যা তাদের আক্রমণভাগের ধার এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তারই প্রমাণ।
অন্যদিকে স্পেনও দুর্দান্ত খেলছে। প্রথম পাঁচ ম্যাচে একটিও গোল না খেয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ৬৪৯ মিনিট ক্লিনশিট ধরে রাখার নতুন রেকর্ড গড়ে তারা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সেই অদম্য রক্ষণ ভেদ হয়।
এই সেমিফাইনালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারেন দুই প্রজন্মের দুই তারকা- কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামাল। এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই এই বিশ্বকাপে আট গোল করে লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের মোট ২০ গোল নিয়ে সর্বকালের সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকাতেও যৌথভাবে শীর্ষস্থান ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল এখনো নিজের সেরা ছন্দ পুরোপুরি খুঁজে পাননি। এখন পর্যন্ত তার গোল মাত্র একটি। তবে আক্রমণভাগে তার বিচরণ প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ত্রাস ছড়াচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের দুই-তিনজন ডিফেন্ডারের বিশেষ নজরদারিতে থাকায় নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি তিনি। তবুও বড় ম্যাচে তার সৃজনশীলতা ও মুহূর্ত বদলে দেওয়ার সামর্থ্য স্পেনের বড় ভরসা।
রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে লা লিগার ‘এল ক্লাসিকো’তে এমবাপ্পে ও ইয়ামাল একাধিকবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের চাপ, মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে জয় মানেই বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার সুযোগ; যে স্বপ্ন প্রতিটি ফুটবলারের হৃদয়ে লালিত।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দলের দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ২০০৬ সালের সেই ম্যাচে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক স্মৃতি স্পেনের পক্ষেই কথা বলে। ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত গোলে স্পেন ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। সেই হার এখনো ফরাসি সমর্থকদের মনে তাজা স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
তাই এবার শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, এটি প্রতিশোধেরও মঞ্চ। ফ্রান্স কি পুরনো ক্ষতের জবাব দিতে পারবে, নাকি স্পেন আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে- সেই উত্তর মিলবে ডালাসের সবুজ ঘাসে। এখন অপেক্ষা শুধু মহারণের।
দুই দেশের কোটি কোটি সমর্থক প্রার্থনা করছেন নিজেদের দলের জন্য। ফুটবলপ্রেমীরাও প্রস্তুত, কারণ বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনাল হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা লড়াই।