যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আসল পরীক্ষার সামনে আর্জেন্টিনা

তসলিম শিমুল

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই,২০২৬, ১১:০০ এ এম
আসল পরীক্ষার সামনে আর্জেন্টিনা

পুরো টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম কোনো শীর্ষ শক্তির বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, যারা এই বিশ্বকাপে বারবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তা ও ট্যাকটিক্যাল শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।

আর্জেন্টিনার পথচলা

সেমিফাইনালে ওঠার আগে আর্জেন্টিনা যেসব দলের মুখোমুখি হয়েছে, তাদের মধ্যে কেবল কাবো ভার্দেকেই এমন প্রতিপক্ষ মনে হয়েছে, যারা বাস্তবিক অর্থেই আর্জেন্টিনাকে হারানোর সামর্থ্য রাখতো। এরপরের দুটি ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলেও প্রতিপক্ষকে জয়ের মতো শক্তিশালী মনে হয়নি। মিসর আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখেছিল। তবে সত্য যে, তারা আর্জেন্টিনাকে হারানোর মতো দল ছিল না।

সুইজারল্যান্ডও আর্জেন্টিনাকে হারানোর মতো দল ছিল না। বরং এই জায়গায় যদি কলম্বিয়া উঠে আসতে পারতো, তাহলে তাদের ফিজিক্যাল ফুটবল আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারতো।

ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

শেষ তিনটি ম্যাচেই ইংল্যান্ড কঠিন পরিস্থিতি সামলে জয় তুলে নিয়েছে।

রাউন্ড অব ৩২: কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জয়

রাউন্ড অব ১৬: মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রায় ৫৬ মিনিট দশজন নিয়ে খেলেও ৩-২ ব্যবধানে জয়

কোয়ার্টার ফাইনাল: নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জয়

এ ধরনের ধারাবাহিক কামব্যাক কেবল মানসিক শক্তির নয়, অসাধারণ ট্যাকটিক্যাল প্রস্তুতিরও প্রমাণ।

টমাস টুখেলের ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস

এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জয় পাওয়া দল ইংল্যান্ড।

এর কৃতিত্ব যেমন ফুটবলারদের, তেমনি অবশ্যই কোচ টমাস টুখেলের প্রাপ্য। তার সুপার সাবস্টিটিউশন, ম্যাচের ভেতরে ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন এবং প্রতিপক্ষকে ছন্দহীন করে দেওয়ার ক্ষমতা ইংল্যান্ডকে বারবার ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে। ট্যাকটিকসের দিক থেকে তিনি অসাধারণ।

আর্জেন্টিনার দুটি বড় ঘাটতি

আর্জেন্টিনার দুটি দুর্বলতা স্পষ্ট। দুই উইং থেকে পর্যাপ্ত মানসম্মত ক্রস আসে না। ২০২২ বিশ্বকাপে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া যেভাবে এই কাজটি করতেন, সেই শূন্যতা এখনো পূরণ হয়নি।

দলে প্রকৃত অর্থে একজন ক্লাসিক নম্বর ৯-এর অভাব রয়েছে, যা অনেক সময় আক্রমণভাগের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

তাহলে আর্জেন্টিনা এতদূর এলো কীভাবে? এর প্রধান কারণ কোচ লিওনেল স্কালোনির অসাধারণ ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান, পজিশনাল ফুটবল এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক।
তবে এই দলের সাফল্যের অর্ধেকেরও বেশি টেনে নিয়ে এসেছেন লিওনেল মেসি। আক্রমণভাগের অন্য খেলোয়াড়রা প্রত্যাশার তুলনায় এখনও নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি।

তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আশাবাদী করবে। সেই ম্যাচে ভবিষ্যতের তিন গুরুত্বপূর্ণ তারকাই গোল করেছেন। তারা হলেন ম্যাক অ্যালিস্টার, জুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ। বিশেষ করে ম্যাক অ্যালিস্টার ও জুলিয়ান আলভারেজের গোলে ফিরে আসা আর্জেন্টিনার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এখনই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ৯০ মিনিটের ফুটবলে যেকোনো দলই জিততে পারে। তবে ইংল্যান্ডের ধারাবাহিক কামব্যাক, মানসিক দৃঢ়তা এবং ট্যাকটিক্যাল পরিপক্বতা আর্জেন্টিনার জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

তারপরও আর্জেন্টিনাকে কখনোই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। মেসির মতো একজন খেলোয়াড় থাকলে ম্যাচের চিত্র এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)