স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘ফ্রান্সকে দেখে নেবো।’ আর মাঠে নেমে সেই কথারই বাস্তব প্রমাণ দিলেন স্পেনের ‘বিস্ময়বালক’ লামিন ইয়ামাল। কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে উঠে গেল স্প্যানিশ আর্মাডা। ম্যাচের আগের আত্মবিশ্বাসী বার্তাকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তিনিই এখন স্পেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তারকা।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে ইয়ামাল জানিয়েছিলেন, ফ্রান্সকে হারানোর ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। সেই বক্তব্যকে অনেকেই কিশোর তারকার দুঃসাহস বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথার সঙ্গে কাজ মিলিয়ে এমবাপেদের স্বপ্ন ভেঙে দিলেন তিনি।
গত দুই বছরে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের আধিপত্য আরও একবার স্পষ্ট হলো। ইউরো, নেশনস লিগের পর এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও ফরাসিদের হারালো লা রোজা। একই সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপের বিপক্ষে লামিন ইয়ামালের নকআউট ম্যাচে সফলতার ধারাও অটুট থাকলো।
দুই তারকার দ্বৈরথে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এমনিতেই ইয়ামালের পক্ষেই ছিল। ২০২৪ ইউরো সেমিফাইনাল, ২০২৫ নেশনস লিগ সেমিফাইনাল, সুপার কোপা ফাইনাল, কোপা দেল রে ফাইনাল এবং ২০২৬ সুপার কোপা- প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নকআউট লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে ইয়ামালের দল। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালও।
ম্যাচে স্পেন শুরু থেকেই নিজেদের পরিকল্পনা মাফিক খেলেছে। বলের দখল, দ্রুত আক্রমণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে ফ্রান্সকে খুব বেশি সুযোগই দেয়নি তারা। এমবাপে কয়েকবার চেষ্টা করলেও স্পেনের রক্ষণভাগের সামনে কার্যকর হয়ে উঠতে পারেননি। অন্যদিকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন স্প্যানিশরা।
বিশ্বকাপের আগে অনেকেই এই ম্যাচকে এমবাপে বনাম ইয়ামালের লড়াই হিসেবে দেখছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোটা কেড়ে নিলেন স্পেনের তরুণ তারকাই। ম্যাচের আগে দেওয়া আত্মবিশ্বাসী বার্তার পর মাঠেও নেতৃত্বগুণ, পরিণত ফুটবল এবং জয়- সব মিলিয়ে নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন ইয়ামাল।
ফ্রান্সের জন্য এটি আরেকটি হতাশার অধ্যায়। টানা তৃতীয়বারের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক নকআউট মঞ্চে স্পেনের কাছে থামতে হলো তাদের। অন্যদিকে স্পেন এখন বিশ্বকাপ শিরোপা থেকে আর মাত্র এক ধাপ দূরে।
এখন স্পেনের চোখ ফাইনালের দিকে। আর লামিন ইয়ামাল? তিনি যেন প্রতি ম্যাচেই লিখে চলেছেন নতুন ইতিহাস। ম্যাচের আগে যে হুমকি দিয়েছিলেন, সেটি আর শুধু বক্তব্য নয়, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ফলই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।