তসলিম শিমুল
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালের আগে লিওনেল মেসিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন শুধু শিরোপা নয়, একের পর এক ব্যক্তিগত রেকর্ডও। যদি ফাইনালে তিনি অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করতে পারেন, তাহলে এই আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়ের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখল করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এই বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সকে শুধু গোলের সংখ্যায় বিচার করলে ভুল হবে। তিনি যেমন নিজে গোল করছেন, তেমনি সতীর্থদের জন্য সুযোগও তৈরি করছেন। একই সঙ্গে পুরো ম্যাচের গতি, ছন্দ ও আক্রমণের দিকনির্দেশনাও নিয়ন্ত্রণ করছেন। আধুনিক ফুটবলে এমন ‘সম্পূর্ণ’ পারফরম্যান্স খুব কম খেলোয়াড়ই ধারাবাহিকভাবে দেখাতে পারেন।
অনেকে তুলনার প্রসঙ্গে কিলিয়ান এমবাপ্পে বা মাইকেল ওলিসের নাম আনছেন। দুজনই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, কিন্তু এই টুর্নামেন্টে মেসির প্রভাব শুধু গোল বা অ্যাসিস্টে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি পুরো দলের খেলায় যে প্রভাব রাখছেন, সেটিই তাকে আলাদা করে তুলেছে।
ব্যক্তিগত পুরস্কারের লড়াইয়েও মেসি এখন এগিয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো গোল্ডেন বল জয়ের সম্ভাবনা তার সামনে উজ্জ্বল। অন্যদিকে গোল্ডেন বুটের লড়াইটা এখনও খোলা। যদি এমবাপ্পে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজের গোলসংখ্যা বাড়াতে না পারেন, তাহলে ফাইনালে মেসি গোল না করলেও অ্যাসিস্টের ভিত্তিতে এগিয়ে থাকার সুযোগ থাকতে পারে। অবশ্য সেটি নির্ভর করবে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান ও ফিফার টাইব্রেক নিয়মের ওপর।
বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে যদি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও একই ধারায় থাকে, তাহলে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায়ও মেসির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদিও সেই পুরস্কার নির্ধারণে পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের প্রভাব সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।
২০২২ সালের বিশ্বকাপকে অনেকেই মেসির ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অধ্যায় বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে এসে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, নিজেকে অতিক্রম করার ক্ষমতাও তার রয়েছে। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা এবং ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্য- সব মিলিয়ে তিনি এখনও বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ফুটবলার।
ভবিষ্যতে হয়তো কোনো তরুণ ফুটবলার মেসির কিছু পরিসংখ্যান ছুঁয়ে ফেলবেন, এমনকি বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যাও অতিক্রম করতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে গোল, অ্যাসিস্ট, নেতৃত্ব এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ- এই চারটি দিক একসঙ্গে ধরে রাখার যে নজির মেসি গড়েছেন, সেটি ভাঙা সহজ হবে না।
এখন মেসির সামনে শেষ আরেকটি মঞ্চ- বিশ্বকাপের ফাইনাল। যদি সেখানে দলকে শিরোপা জেতাতে পারেন, আর সঙ্গে আসে গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুট কিংবা পরবর্তীতে ব্যালন ডি’অর, তাহলে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি নিঃসন্দেহে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।