স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
একদিন যে অবুধ শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেছিলেন তরুণ সুপারস্টার লিওনেল মেসি, আজ সেই শিশুটিই খেলার মাঠে তার প্রতিদ্বন্দ্বী। ভাবা যায়!
বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তারা। এই মহারণের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে ১৮ বছর আগের একটি ছবি, যেখানে বার্সেলোনার তরুণ তারকা মেসির কোলে দেখা যায় মাত্র কয়েক মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে।
ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০০৮ সালে বার্সেলোনা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি চ্যারিটি ফটোশুটে। সেই অনুষ্ঠানে ইয়ামালের পরিবারও অংশ নিয়েছিল। ছবিতে দেখা যায়, তখন মাত্র ২০ বছর বয়সী মেসি একটি ছোট্ট বাথটাবে বসিয়ে শিশু ইয়ামালকে স্নান করাচ্ছেন। পরে তিনি শিশুটিকে কোলেও নেন। সময়ের ব্যবধানে সেই শিশুই আজ স্পেনের অন্যতম বড় তারকা এবং বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন।
ঐতিহাসিক এই ছবির আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট জানান, সে সময় তিনি সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর হয়ে কাজ করছিলেন। তার ভাষ্য, মেসি ছিলেন ভীষণ লাজুক। শিশুকে কীভাবে কোলে নিতে হবে বা স্নান করাতে হবে, তা নিয়েও প্রথমদিকে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই মুহূর্তই পরে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ছবিতে পরিণত হয়।
মেসি ও ইয়ামালের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিলও রয়েছে। দুজনেরই ফুটবলে বেড়ে ওঠা বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে। মেসি সেই অ্যাকাডেমি থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইয়ামালও লা মাসিয়ার নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিভা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এবারের বিশ্বকাপে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল গোলের চেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন তার গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতায়। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষেও ছিলেন দুর্দান্ত।
অন্যদিকে, ৩৯ বছর বয়সেও দুর্বার ছন্দে রয়েছেন লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুট এবং গোল্ডেন বল- দুই পুরস্কারের লড়াইয়েই শক্ত অবস্থানে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল তাই শুধু আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা লড়াই নয়, এটি দুই প্রজন্মের দুই অসাধারণ প্রতিভারও মুখোমুখি হওয়ারও সময়। যে মেসি একদিন নিজের হাতে শিশু ইয়ামালকে স্নান করিয়েছিলেন, কোলে নিয়েছিলেন, প্রায় দুই দশক পর সেই ইয়ামালই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তার স্বপ্নের পথে সবচেয়ে কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই ম্যাচটির পাশাপাশি ভাইরাল সেই ছবিটিও এখন ইতিহাস, আবেগ এবং প্রজন্ম বদলের এক অনন্য প্রতীক।