স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
১৩ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় আক্রান্ত মেসিকে নিয়ে তার পরিবার যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন স্পেনের বার্সেলোনা ক্লাব চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ফুটবল ইতিহাস। স্পেনের মাটিতেই শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন মেসি, গড়ে ওঠে তার ফুটবল প্রতিভা, আর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়।
এরপর একের পর এক সাফল্য। বার্সেলোনার হয়ে অসংখ্য লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা, রেকর্ড সংখ্যক ব্যালন ডি’অর, অগণিত গোল, অ্যাসিস্ট, বিশ্বজোড়া খ্যাতি, অর্থ, সম্মান- সবকিছুর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল স্পেনেই।
আর আজ ভাগ্যের কী অপূর্ব নির্মাণ! সেই স্পেনই দাঁড়িয়ে আছে তার বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ের অপর প্রান্তে।
এই ফাইনালের আরেকটি দিক আরও বেশি আবেগের।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যে মাঠ মেসির জীবনের সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতিগুলোর একটি বহন করে। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে ঠিক এই স্টেডিয়ামেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তার আগে ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ কোপা আমেরিকার ফাইনালও হেরেছিল আর্জেন্টিনা। টানা তিনটি বড় ফাইনালে পরাজয়ের হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
কিন্তু গল্পটি সেখানেই শেষ হয়নি। মেসি ফিরে এসেছিলেন। এরপর তিনি আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, বিশ্বকাপ এবং আরও একটি কোপা আমেরিকা। যে মানুষটিকে একসময় ‘ফাইনালে হারার’র গালমন্দ শুনতে হতো, তিনিই হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।
এখন আবার সেই মেটলাইফ স্টেডিয়াম। তবে এবার চোখে জল নয়, সামনে রয়েছে ইতিহাসের আরেকটি সুযোগ। একদিকে তার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ সেই স্পেন, যে দেশ তার জীবন বদলে দিয়েছিল।
ফুটবল এমন নাটকীয় গল্প খুব কমই লেখে। যেখানে জীবনের সবচেয়ে বড় ঋণ আর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন একই ম্যাচে মুখোমুখি দাঁড়ায়।
মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ তাই শুধুই একটি ফাইনাল নয়। এটি কৃতজ্ঞতা, স্মৃতি, আবেগ এবং ইতিহাসের এক অনন্য মিলনমঞ্চ।
কখনও কখনও বাস্তবের ফুটবল অনিন্দ্য সুন্দর চিত্রনাট্য লিখে ফেলে।