স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলগতভাবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন যেমন আর্জেন্টিনার সামনে, তেমনি অধিনায়ক লিওনেল মেসির সামনে অপেক্ষা করছে একাধিক রেকর্ড গড়ার সুযোগ।
৩৯ বছর বয়সে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামবেন মেসি। ২০১৪ সালে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হলেও ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি। এবার স্পেনকে হারাতে পারলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ফাইনালে মেসির সামনে থাকা সম্ভাব্য রেকর্ডগুলো হলো:
১. ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে মাঠে নেমে গোলরক্ষক বাদে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলার হবেন তিনি;
২. ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়বেন;
৩. আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেবেন, পেছনে ফেলবেন দিয়েগো ম্যারাডোনাকে;
৪. আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়বেন;
৫. ফাইনালে গোল করতে পারলে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের রেকর্ড নিজের করে নেবেন;
৬. এই বিশ্বকাপে আর একটি গোল করলেই ১৯৩০ সালের গিয়ের্মো স্তাবিলের এক আসরে সর্বোচ্চ আট গোলের আর্জেন্টাইন রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়বেন;
৭. ফাইনালে দুটি গোল করলে বিশ্বকাপের এক আসরে দশ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা ইউরোপের বাইরের প্রথম ফুটবলার হবেন;
৮. গোল করতে পারলে দুই ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ইতিহাসের ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখাবেন;
৯. গোল করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে পারলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়বেন, ভেঙে দেবেন ২০০২ সালে রোনালদোর আট গোলের কীর্তি;
১০. ফাইনালে দুটি গোল করলে কিলিয়ান এমবাপ্পের বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ চার গোলের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন। আর হ্যাটট্রিক করলে পাঁচ গোল নিয়ে এককভাবে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়বেন;
১১. আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে। একই সঙ্গে মেসি হবেন সবচেয়ে বেশি বয়সে টানা দুই বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসির সামনে তাই শুধু আরেকটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, অপেক্ষা করছে ইতিহাসের পাতায় আরও উজ্জ্বলভাবে নিজের নাম লেখানোর সুযোগ। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল (বাংলাদেশে ২০ জুলাই) তাই শুধু আর্জেন্টিনা-স্পেন লড়াই নয়, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়ার রাতও হতে পারে।