তসলিম শিমুল
যে চোখ একদিন বিশ্বজয়ের আনন্দে ভিজেছিল, চার বছর পর সেই একই চোখ ভিজল পরাজয়ের বেদনায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলো লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার। ট্রফি ধরে বিদায় নেওয়ার যে স্বপ্ন নিয়ে শেষ বিশ্বকাপে নেমেছিলেন, সেটি আর পূরণ হলো না। শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা। কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে পুরো ম্যাচজুড়েই মেসিকে কঠোরভাবে আটকে রাখে স্পেনের রক্ষণভাগ। নিজের পরিচিত জাদুকরী ছন্দে দেখা যায়নি তাকে। শেষদিকে একটি শট ও কয়েকটি কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করলেও ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেননি। আর্জেন্টিনাও স্পেনের আধিপত্যের সামনে দাঁড়াতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজতেই কিছুক্ষণ স্থির হয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেসি। কোমরে হাত রেখে চারপাশে তাকিয়ে যেন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরপর সতীর্থরা এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। কিছুক্ষণ পর মাঠেই বসে পড়েন তিনি। হতাশা আর শূন্যতা যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল তার মুখে।
ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল দুই প্রজন্মের লড়াই—লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। ম্যাচে ইয়ামালই ছিলেন উজ্জ্বল। তবে জয় উদযাপনের মুহূর্তেও তিনি ছুটে যান মেসির কাছে। প্রতিপক্ষের এই তরুণ তারকা কিংবদন্তিকে আলিঙ্গন করে সান্ত্বনা দেন। ফুটবলের সৌন্দর্যের আরেকটি অনন্য মুহূর্ত হয়ে থাকে সেই দৃশ্য।
এরপর সতীর্থদের সঙ্গে ধীরে ধীরে মাঠ ঘুরে সমর্থকদের অভিবাদন জানান মেসি। মনে হচ্ছিল, যত দ্রুত সম্ভব ড্রেসিংরুমে ফিরতে চান তিনি। কিন্তু ঠিক তখনই মেটলাইফ স্টেডিয়াম গর্জে ওঠে—‘মেসি, মেসি’ ধ্বনিতে। আর্জেন্টিনা-স্পেন, দুই দলের সমর্থকরাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানান ফুটবলের এই মহাতারকাকে। সেই ভালোবাসার জবাবে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রু।
২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পরও কেঁদেছিলেন মেসি। তবে সেদিন ছিল স্বপ্নপূরণের আনন্দাশ্রু, আর এবার তা অপূর্ণতার বেদনা। দুটি কান্না—দুই ভিন্ন অনুভূতির প্রতিচ্ছবি।
৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটিই বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি, তবু এই ম্যাচটিই হয়তো আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ বিশ্বকাপ উপস্থিতি হয়ে থাকবে।
ট্রফি জিততে না পারলেও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে মাঠ ছেড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের শেষ মঞ্চে শিরোপা নয়, পেয়েছেন কোটি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসার প্রতিধ্বনি হয়তো বহু বছর ধরে শোনা যাবে—‘মেসি... মেসি...’