যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বিদ্যুৎহীনতায় ২৫ কোটি টাকার মাছের মৃত্যু দাবি নিয়ে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিনিধি

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট,২০২৬, ১০:০০ এ এম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট,২০২৬, ১২:১০ এ এম
বিদ্যুৎহীনতায় ২৫ কোটি টাকার মাছের মৃত্যু দাবি নিয়ে তোলপাড়

যশোরের একটি খামারে ২০-২৫ কোটি টাকার মাছের মৃত্যুর দাবি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খামার কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে অক্সিজেন সংকট হওয়ায় এই বিপুল টাকার মাছের মৃত্যু হয়। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওই রাতে অল্পসময় লোডশেডিং হয়েছিল এবং এই কারণে মাছ মারা যেতে পারে না।

মরে যাওয়া মাছের দাম ২৫ কোটি টাকা হতে পারে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। যশোর জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের তরফে এই দাবিকে ‘অসার’ বলা হচ্ছে। সরকারকে বিপাকে ফেলার উদ্দেশ্যে কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ঘটনার আদ্যপান্ত তদন্ত করতে ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া জেলা মৎস্য বিভাগ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিও পৃথক তদন্ত কমিটি করেছে।

জেলার শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখো বিলে আলোচিত মাছের খামারটির অবস্থান। এটি ‘সজনের ঘের’ হিসেবে পরিচিত। সাড়ে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে তোলা খামারটিতে চলতি মৌসুমে মাছ চাষ করছেন আফজালুল হকসহ তার কয়েক সহকর্মী। আফজালুল হক দাবি করছেন, গত ২২ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি খবর পান, খামারের মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করেছে। তার দাবি, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে অক্সিজেন স্বল্পতায় পাবদা মাছগুলো মরে ভেসে উঠতে থাকে।

তিনি দাবি করেন, খামারে শুধু পাবদা মাছ ছিল ৬০ লাখ পিস। এছাড়া ৬০ হাজার পিস অন্যান্য মাছ ছিল। সবমিলিয়ে খামারটিতে যে মাছ ছিল, তার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। এই মাছ মৃত্যুর পেছনে বিদ্যুৎহীনতাকে দায়ী করেন তিনি। তবে স্বীকার করেন, জেনারেটর ছাড়া এত বড় মাছের খামার তৈরি করা তার উচিত হয়নি। পুঁজি স্বল্পতার কারণে তিনি জেনারেটর কিনতে পারেননি বলে জানান।

যে এলাকায় আলোচিত মাছের খামারটির অবস্থান, সেটি যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীন। এই সমিতির জেনারেল ম্যানেজার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার রাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাত ১টা ৪০ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত লোডশেডিং ছিল। মাত্র ৪০ মিনিটের বিদ্যুৎহীনতার কারণে কোটি কোটি টাকার মাছ মরে যাওয়ার দাবি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

পল্লী বিদ্যুতের বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লোডশেডিং হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎহীনতার কারণে কোথাও মাছের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ওই খামারে মাছ মরা শুরু হয়েছে রাত সাড়ে ১১টা থেকে। তখন তো বিদ্যুৎ ছিল। ফলে খামারটিতে মাছের মৃত্যুর সঙ্গে বিদ্যুৎ থাকা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই।

খামারের এক শ্রমিক দাবি করেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মাছ মরে গেছে। খামার মালিকের ভাতিজা পরিচয় দেওয়া যুবক দাবি করেন, তিনি খামারটি দেখাশুনা করেন। তার হিসেবে, ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার মাছ মরে গেছে। এই মাছ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) দেবাশীষ ভট্টাচার্য বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মাছ মরে যাওয়ার দাবি কোনো মতেই ঠিক না। যদি তা-ই হতো, তাহলে ওই এলাকায় আরও ১২টি বড় খামার আছে। সেখানেও মাছ মারা যেত।

১৫ থেকে ২৫ কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তাও অতিরঞ্জিত বলে বর্ণনা করেন এই কর্মকর্তা। বলেন, ‘আমি যতটা জানতে পেরেছি, ১০/১৫ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা যাবে না জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তবে মাছের ঘনত্ব বেশি হলে অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটতে পারে।’

অন্যদিকে, যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কর্মচারীরা ঘটনার ব্যাপারে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের তরফে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, তদন্তে স্বচ্ছতার স্বার্থে এই কমিটিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাউকে রাখা হয়নি। শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটিতে কাজ করবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের একজন প্রতিনিধি, একজন মৎস্য কর্মকর্তা এবং শার্শা উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা। এই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, বিষয়টি নিয়ে কেউ সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন কি না তদন্ত কমিটি তা-ও খতিয়ে দেখবে।

প্রসঙ্গত, যশোর জেলায় চাহিদার তুলনায় বাড়তি মাছ উৎপাদিত হয়। উদ্বৃত্ত মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া ছাড়াও বিশেষ করে পাবদা ভারতে রপ্তানি হয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)