যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস

দালালকে টাকা না দিলেই ভোগান্তি!

ছাকিন হোসেন

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে,২০২৬, ১০:০০ এ এম
দালালকে টাকা না দিলেই ভোগান্তি!

যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালাল না ধরলেই ভোগান্তিতে পড়তে হয় সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষকে। সরাসরি সেবা পেতে চাইলে ‘নানা রকমের ভুল-ত্রুটি’ দেখিয়ে হয়রানি করা হয় নিয়মিত। দীর্ঘদিন ধরে এই দৌরাত্ম্য চললেও সমাধানে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

পাসপোর্ট করতে আসা লোকজন ও অফিস সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ৪০-৪৫জন দালাল রয়েছেন। অফিসের কর্মচারী ও দালালদের মধ্য একটি অলিখিত চুক্তি আছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী পাসপোর্ট প্রতি নির্দিষ্ট হারে টাকা পান কর্মচারীরা। সেকারণে লাইনে দাঁড়িয়ে যারা আবেদন ফরম ও আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র জমা দেন, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তাদের সেই আবেদনে ‘নানা ভুল ধরে’ সেগুলো ফিরিয়ে দেন।

সোমবার দুপুরের দিকে সরেজমিনে দিকে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি বেশ কম। পুরুষ ও নারীদের লাইনে ১৫-২০ জন দাঁড়িয়ে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাইরের একজন হঠাৎ করে এসে সংশ্লিষ্ট বুথে দুইটি আবেদনপত্র জমা দিয়ে গেলেন।

সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন, সরকারি নিয়মে পাসপোর্ট করতে গেলে নানা ধাপে হয়রানি, বিলম্ব এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে সক্রিয় রয়েছে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে ছবি তোলা, বায়োমেট্রিক ও ডেলিভারি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দালালদের প্রভাব লক্ষ্যণীয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ করাতে গেলে দালালদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়।

মণিরামপুরের কলেজশিক্ষার্থী সোহেল রানা জানান, তিনি নিয়মনীতি মেনে পাসপোর্টের জন্যে আবেদন করেন। কিন্তু অফিসে গেলে বলা হয়- দেরি হবে। এ অবস্থায় একজন দালালের মাধ্যমে চাহিত টাকা দিয়ে কাজটি দুইদিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ নিয়মে পাসপোর্ট করতে অফিসে গেলে ঝামেলা করা হয়। অথচ, দালাল ধরলে কোনো সমস্যা নেই।

ভুক্তভোগী নাহিদ হাসান পাপ্পু বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনে অনলাইনে আবেদন করে অফিসে যাই। কিন্তু কয়েকবার কাগজে ভুল আছে বলে ঘুরানো হয়েছে। পরে বাইরে থাকা এক দালাল এসে বলে টাকা দিলে দ্রুত কাজ করে দেবে। পরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েছি।’

গৃহবধূ ফারজানা বেগম বলেন, ছবি তোলা ও ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু বারবার সিরিয়াল পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরে এক ব্যক্তি এসে বলে দ্রুত করাতে হলে আলাদা খরচ লাগবে। সাধারণ মানুষের সাথে এমন আচরণ খুব কষ্টদায়ক।

ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, পাসপোর্ট অফিসের সামনে গেলেই দালালরা ঘিরে ধরে। তারা এমনভাবে কথা বলে যেন অফিসের ভেতরের সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে। সাধারণ মানুষ ভয় ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, কর্মচারীদের সঙ্গে এই দালালদের রয়েছে কিছু সাংকেতিক ভাষা। সেগুলোর একটি হচ্ছে ‘ভিআইপি চ্যানেল’ অপরটি ‘নরমাল চ্যানেল’। ইদানিং লাইনে ২০-২৫ জন থাকলেও দুপুরের মধ্যে জমা হয়ে যায় শ’খানেক আবেদন। দিনে দুইশ’ থেকে আড়াইশ’। যার বেশিরভাগই জমা হয় সেইসব চ্যানেলের মাধ্যমে।

সূত্র জানায়, যারা চ্যানেল ছাড়া আবেদন জমা দিতে যান, তাদের নানা ধরনের ভুল দেখিয়ে হয়রানি করা হয়। সেকারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ ঝামেলা এড়াতে শেষমেষ দালালের শরণাপন্ন হন। সেক্ষেত্রে দালালদের দিতে হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। এখন পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথা উঠে গেলেও কারো কারো এনআইডি সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে টাকার অঙ্ক বেশ বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মহের উদ্দিন শেখ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। দালালদের দৌরাত্ম্য কিংবা সাধারণ নাগরিকরা পাসপোর্ট করতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হন, এমন খবর আমার জানা নেই। এই অফিসে এখন গড়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে দেড়শ’ পাসপোর্ট আবেদন জমা পড়ে বলে তিনি জানান।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)