বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
১১ বছর পর দেশে ফিরছে মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলে আরিফ ইসলাম। সেই তরুণ বয়সে প্রবাসী হন যাতে সংসারের একটু উন্নতি হয় ভূমিহীন বাবা শহিদুলের। দেশে ফেরার পরদিন বিয়ের জন্যে তার কনে দেখতে যাওয়ার কথা। ঈদশেষে শহিদুলের পরিবারে আরও বেশি ঈদের খুশি বিরাজ করছিল।
সোমবার রাতে আরিফ মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় ফেরেন। আর তাকে বাড়িতে আনতে মা, ভাই, বোন আর দুই ভাগনে-ভাগনি যান শাহজালাল বিমানবন্দরে। সেখান থেকে প্রাইভেটকারে ওইরাতেই ফিরছিলেন যশোরে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের খোশালনগর-বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মাঠপাড়ায় শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ছিল শত শত মানুষের ভিড়। এই বাড়িতে নতুন করে ঈদ আনন্দ হওয়ার কথা ছিল। অথচ, পরিবারের সবাইকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন শহিদুল। কখনো হাউ-মাউ করে কাঁদছেন আবার কখনো নিশ্চুপ হয়ে মানুষের মুখের দিকে তাকাচ্ছেন।
মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসের মালিগ্রাম এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কায় শহিদুলের স্ত্রী, তিন সন্তান ও প্রাইভেটকার চালকের মৃত্যু হয়।
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ভোর সাড়ে তিনটার দিকে ড্রাইভারের ফোন নাম্বার থেকে একজন সবজি ব্যবসায়ী পরিচয়ে প্রথমে আমাকে জানান দুর্ঘটনার কথা।’
তিনি বলেন, বাড়িতে ফিরে বুধবার (৩ জুন) বিয়ের জন্যে মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল ভাইপো আরিফ ইসলামের (২৪)। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মা নূরজাহান (৫০), ছোটভাই রাকিব (১৭) বোন আয়েশা বেগম (২৮) আর প্রাইভেটকারের ড্রাইভার ছিলেন জাহিদ (৩০) নিহত এবং ভাগনে হুসাইন (৭) ও ভাগনি তাসফিয়া (৩) আহত হয়েছে।
ড্রাইভার জাহিদ আমাদের পাশের গ্রাম রাজগঞ্জের বাসিন্দা। তার সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে, স্ত্রী সন্তানসম্ভবা।
তিনি বলেন, আজ যে বাড়িতে ঈদ আনন্দ হওয়ার কথা, সেখানে এখানে বিষাদ ভর করেছে। সবার চোখেমুখে কান্নার ছাপ।
বাঁকড়া ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মোসলেম উদ্দিন বলেন, শহিদুল ইসলাম খুবই দরিদ্র মানুষ। সংসার যেন একটু সচ্ছল হয়, সেকারণে ছোট থাকতেই ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠান ইজিবাইক চালক বাবা। ছেলের পাঠানো টাকায় এই বালিয়াডাঙ্গার মাঠপাড়া পাঁচ শতকের মতো জায়গা কিনে সেখানে ইটের গাঁথুনিতে টালি ছাওয়া একটি বাড়ি, একটি গোয়ালঘর করেছেন। ইচ্ছে ছিল, ছেলে বিদেশ থেকে ফিরে বিয়েশাদি করে কিছুদিন পর আবারও চলে যাবে। কিন্তু তার সে আশা নিরাশায় রূপ নিয়েছে। এখন তাদের দাফনের জন্যে আমার পারিবারিক কবরস্থানে জায়গা নির্ধারণ করেছি। কাফনের কাপড় কেনা হয়েছে। লাশ এলে সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।