ফলোআপ
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সরকারি জায়গা ব্যবহার করে মাছের আড়ৎ পরিচালনার অভিযোগে সুবর্ণভূমিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে।
তবে, এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ২ জুন সুবর্ণভূমিতে ‘ইউনিয়ন পরিষদে গভীর জলাধার, মাছের আড়ৎ!’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের গা ঘেঁষে সরকারি জায়গায় পাকা জলাধার নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পাঙাস মাছ মজুদ ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
অনেকেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ কেউ এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন।
ফেসবুক ব্যবহারকারী ওরফাজুর আশিক লিখেছেন, পরিষদজুড়ে পুরাই দুর্গন্ধ।
এমডি ইমন হোসেন মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের আমলে তৈরি করা হয়েছিল, সেভাবেই চলছে। তখন কেন দেখেননি?
মোকলেছুর রহমান লিখেছেন, পরিষদ চত্বর ব্যবহার করার অনুমতি কে দিয়েছে, কে এর বেনিফিট গ্রহণ করে—সাধারণ মানুষ জানতে চায়।
বুলবুল সানা মন্তব্য করেন, ওটা পরিষদের অঘোষিত সচিবের আড়ৎ।
সেলিম হোসেন মুন্না লিখেছেন, ‘ভাই, ভিকটিমের ছবি দেন।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সেবা প্রদানের প্রতিষ্ঠান। সেখানে স্থায়ী জলাধার নির্মাণ করে বাণিজ্যিকভাবে মাছের আড়ৎ পরিচালনা করায় পরিষদের পরিবেশ, জনসেবা কার্যক্রম এবং সরকারি সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু জানিয়েছিলেন, আড়তের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জায়গাটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের লিখিত রেজুলেশন রয়েছে।
তবে, জায়গাটি মাসিক নাকি বার্ষিক ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, কতো টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর তিনি দেননি। বলেছেন, ওখান থেকে যে টাকা আসে পূজার সময় খরচ করা হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন থেকেও থাকে, তাহলে সরকারি অফিস চত্বরের ভেতরে মাছের আড়তের মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না। পাশাপাশি এ ভাড়ার অর্থ সরকারি হিসাব অনুযায়ী জমা হচ্ছে কি না, সেটিও জানার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুন্নাহার কনক পূর্বে বলেছিলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নেবো।’
প্রতিবেদন প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার পরও এ বিষয়ে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা কীভাবে, কোন নীতিমালার আওতায় এবং কতো টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছেন আটুলিয়ার সাধারণ মানুষ।