যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের প্রহরী হত্যামামলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা!

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন,২০২৬, ১০:০০ এ এম
বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের প্রহরী হত্যামামলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা!

যশোরের চৌগাছায় বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের গার্ড আতিয়ারকে ‘হত্যা করেছে’ ফতেপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৩৮) ও কবীর হোসেন (২৫) নামে দুইজন। বাঁওড় থেকে তারা প্রতিনিয়ত মাছ চুরি করতেন বলে অভিযোগ। আর আতিয়ার তাদের বাধা দিতেন। বাধা দেয়া, গালিগালাজ করায় রাগ ও ক্ষোভ থেকেই তারা দুইজন পরিকল্পনা করেন আতিয়ারকে হত্যা করার।

অথচ, এই হত্যামামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির একটি অংশের নেতাদের। যারা এই ঘটনার কিছুই জানতেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ষূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন হিসেবে মাদরাসা ছাত্র ওসমানকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। সে পুলিশকে ওই হত্যাকাণ্ডের আগে গার্ড আতিয়ারের অবস্থান জানতে চাওয়া মাছ চোর মোহাম্মদ আলী ও কবীর হোসেনের নাম বলে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী কবীর গত ২০ জুন রাত ৯টার কিছু আগে মাদরাসার শিক্ষার্থী ওসমানের (১৮) কাছে মোবাইলফোন করে আতিয়ারের অবস্থান জানতে চায়। ওসমানও বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের পাশে ফতেপুর মাঠে নিজেদের সেচকাজে ব্যবহৃত মোটরের ঘরে রাতে থাকার সুবাদে আতিয়ারের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। ওসমান সেদিন জামায়াতের খুলনা বিভাগীয় জনসভা থেকে তখন ফিরছিল। কবীর যখন ফোন করে ওসমানের বহন করা বাস তখন যশোরের মুড়লীর মোড়ে। ওসমানকে কবীর বলেন, আতিয়ার কোথায় আছে তার খোঁজ নিয়ে দিতে। ওসমান খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সেইসময় আতিয়ার বাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে বাঁওড়ের দিকে যাচ্ছেন। বিষয়টি সে কবীরকে জানায়। পরে কবীর ও মোহাম্মদ আলী পরিকল্পনা মোতাবেক ধারালো অস্ত্র নিয়ে যান বাঁওড়ে। প্রতিদিনের মতো আতিয়ারও পাহারা দিচ্ছিলেন। তিনি দেখেন, কবীর ও মোহাম্মদ আলী মাছ ধরছে। তখন গালিগালাজ করে তাদের উঠিয়ে দিতে গেলে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আতিয়ারের ঘাড়, পিঠ, পেট, বগলের নিচে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কেটে বাঁওড় পাড়ের রাস্তার পাশের ক্যানালে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে।

পরদিন ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তার মোবাইলফোনে সর্বশেষ ফোন কল অনুযায়ী ওসমানকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে মারপিট করে নিহতের স্বজনরা। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। ওসমানকে জিজ্ঞাসাবাদেই বের হয় কবীরের ফোন কলের কথা। পরে কবীরকে আটক করে পুলিশ। কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনায় সে এবং মোহাম্মদ আলী জড়িত বলে স্বীকার করে।

এদিকে, লাশ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থলে লাশ দেখতে আসা লস্কারপুর গ্রামের সুজাকে আটক করে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশে দেয় নিহতের ছোট ভাই রাশেদ।

লাশ উদ্ধারের একদিন পর সোমবার রাতে চৌগাছা থানায় দেয়া সুজা, পুলিশের হাতে আটক কবীর, পলাতক মোহাম্মদ আলীসহ নয় জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৭/৮জনকে আসামি করে এজাহার দেন নিহতের ভাই রাশেদ। যা পুলিশ মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই নিহতের ভাই চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম, ধুলিয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম, বিএনপি কর্মী আব্দুর রহিমের চাচাতো ভাই শুকুর আলী, ফতেপুর গ্রামের দাউদ হোসেন, চৌগাছা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম এবং বেড়গোবিন্দপুর-মন্মথপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়। আসামি হওয়া এসব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সাথে বাঁওড়ের ইজারাকেন্দ্রিক বিরোধ ছিল।

বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধের কারণেই আমাকে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে আমার নূন্যতম সম্পৃক্ততা নেই।’

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনূচ আলী দফাদার বলেন, আসামি শনাক্ত হওয়ার পরও শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার সাথে কারও সম্পৃক্ততা না থাকলে তদন্ত করে তাদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত আসামিদের নামেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)