যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কোটি টাকা ব্যয়ে পরিষ্কার করা ময়লা ফের ড্রেনে

শাহারুল ইসলাম ফারদিন

, যশোর

প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুলাই,২০২৬, ১০:০০ এ এম
কোটি টাকা ব্যয়ে পরিষ্কার করা ময়লা ফের ড্রেনে

ড্রেন পরিষ্কারে বছরে কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ ব্যয় করছে যশোর পৌরসভা। শতাধিক শ্রমিক দিয়ে নিয়মিত কাদা, পলিথিন ও আবর্জনা তোলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই বর্জ্য ড্রেনের পাশের ফেলে রাখা হচ্ছে। পরে বৃষ্টির পানিতে তা আবার ড্রেনে ফিরে যাচ্ছে। ফলে, বর্ষায় জলাবদ্ধতার চিত্র বদলাচ্ছে না। এতে, সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নাগরিকরা।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, যশোর পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার। গেলো অর্থবছরে ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুই কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। খরচ হয় এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কার করতে বছরে গড়ে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

পৌরসভার প্রশাসনিক ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুণ্ডু জানান, বর্ষা মৌসুমের আগে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন দেড়শ’ থেকে ১৬০ জন শ্রমিক ড্রেন পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত থাকেন। প্রয়োজন হলে এই সংখ্যা দুইশ’ জন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। প্রত্যেক শ্রমিকের দৈনিক মজুরি পাঁচশ’ টাকা।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রতিদিন শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হচ্ছে ৪১ হাজার টাকা। বর্তমান জনবল অনুযায়ী মাসে প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় এক কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা শুধু শ্রমিকদের মজুরিতেই ব্যয় হতে পারে। এর বাইরে বর্জ্য অপসারণ, পরিবহন, যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও তদারকির ব্যয় রয়েছে।

সম্প্রতি খড়কি, বারান্দিপাড়া, খড়কি, চাঁচড়া, শংকরপুর ও বকচর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেন থেকে তোলা কাদা, প্লাস্টিক, পলিথিন ও পচা বর্জ্যের স্তূপ অনেক জায়গায় ড্রেনের পাশেই পড়ে রয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব বর্জ্যের একটি বড় অংশ আবার ড্রেনে ধুয়ে যাচ্ছে।

খড়কি এলাকার বাসিন্দা সজিব হোসেন বলেন, প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের কথা শুনি। কিন্তু ভারী বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়। ড্রেন পরিষ্কার করলে যদি সেই ময়লাই আবার ড্রেনে ফিরে যায়, তাহলে সুফল কোথায়?

বারান্দিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আলীনুর বলেন, ড্রেন থেকে তোলা বর্জ্য দ্রুত সরানো না হলে বৃষ্টিতে আবার ড্রেনে চলে যায়। এতে একই কাজ বারবার করতে হয়, কিন্তু জলাবদ্ধতা কমে না।

নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সমন্বয়কারী মাসুদুজ্জামান মিঠু বলেন, শুধু ড্রেন পরিষ্কার করলেই হবে না। ড্রেন থেকে তোলা বর্জ্য দ্রুত অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। অন্যথায়, একই কাজের জন্য বারবার সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জায়েদ হোসেন বলেন, ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়মিত চলছে। তবে শহরবাসীকেও ড্রেনে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পৌরপ্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. রফিকুল হাসান বলেন, জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)