যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

দশ কোটি টাকার সড়কে তিন মাসেই খানাখন্দ!

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই,২০২৬, ১০:০০ এ এম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই,২০২৬, ১২:০৩ এ এম
দশ কোটি টাকার সড়কে তিন মাসেই খানাখন্দ!

সংস্কারের তিন মাস পার হতে না হতেই খানাখন্দে পরিণত হয়েছে যশোরের চৌগাছার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের পর বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে গেছে, দেখা দিয়েছে ভাঙন ও জলাবদ্ধতা। এ ঘটনায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির কারণে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলো অল্প সময়েই নষ্ট হতে শুরু করেছে। তারা এ ঘটনার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডুসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ-বছরে চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে প্রায় দশ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের ছয় কিলোমিটার সংস্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া, চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়কের টেঙ্গুরপুর মোড় থেকে খড়িঞ্চা বাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক পুনর্র্নিমাণ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে বিটুমিন উঠে গেছে। একটি কালভার্টের সংযোগস্থলেও সৃষ্টি হয়েছে ভাঙন।

পুড়াপাড়া-রামকৃষ্ণপুর সড়ক সংস্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি গয়ড়া-মাশিলা সড়ক, কমলাপুর মোড়-মাশিলা সড়ক, চৌগাছা পৌরসভার দামোদর বটতলা থেকে স্বরূপদাহ সড়ক এবং সৈয়দপুর থেকে সাতমাইল সড়ক সংস্কারেও বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে নতুন সংস্কার হওয়া এসব রাস্তার বিটুমিন উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মে মাসের শেষদিকে রাস্তাগুলো কার্পেটিং (বিটুমিন দিয়ে মোড়ানো) হয়। দু’মাস যেতে পারেনি এর মধ্যেই সড়কের এমন অবস্থা হওয়ায় আমরা হতাশ। তাদের দাবি, কার্পেটিংয়ের সময়ই উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। কাজের ম্যাকাডমের (ওয়াটার ব্রিকস ম্যাকাডম) সময় খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। সে সময় গুণগতমান যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তারা।

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডুকে গত ৬ জুলাই চৌগাছা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় এবং ৭ জুলাই তিনি অবমুক্ত হয়ে যাবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়। এরপরও তিনি নিজের দুর্নীতি ঢাকতে স্ট্যান্ড রিলিজ আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প ভিজিট করে বেড়াচ্ছেন। একইসাথে গত ৭ জুলাই খাতাকলমে চার্জ হ্যান্ডওভার করলেও উপজেলা পরিষদের বাসা ছাড়েননি। এমনকি বাসায় রাস্তার পরিচ্ছন্নতার কাজে কর্মরত নারী কর্মীদের (আরইআরএমপি) নিজের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করিয়ে নিচ্ছেন।

তবে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিটুমিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদাররা কিছুটা সমস্যায় পড়ে। এরপরও আমরা কাজের মান ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।

এলজিইডির যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুর রহমান বলেন, অনিয়মের বিষয়টি জানা নেই। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে অনিয়মের নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্ট্যান্ড রিজিলের ব্যাপারে তিনি বলেন, তাকে যশোর অফিস থেকে অফিসিয়ালি রিলিজ দেওয়া হয়েছে। এরপরও তিনি উপজেলাতে অবস্থান করছেন কি না আমার জানা নেই।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চৌগাছা-ঝিকরগাছার সড়কগুলো সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগ তৈরি করেছিল। কিছু সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। তবে, কাজে অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)