সম্পাদকীয়
যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক ২৪০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ২৮টি ভিজিলেন্স টিম গঠন এবং প্রতিটি কেন্দ্রকে সিসিটিভির আওতায় আনার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই কার্যক্রম আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
বহু বছর ধরে এইচএসসি ও এসএসসি পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে নকল ও প্রশ্নফাঁসের মতো অভিশাপ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে গ্রাস করে আসছিল। এর ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হতো, মূল্যায়নের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হতো এবং শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতো। কিন্তু যশোর বোর্ডের বর্তমান উদ্যোগ- সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সর্বক্ষণিক মনিটরিং, নির্ধারিত ভিজিলেন্স টিমের কর্তব্য পালন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আইডি-পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ- এই ধারায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, প্রতিটি উপজেলা ও কেন্দ্রের জন্য আলাদা টিমের সমন্বয়ক নির্ধারণ, যারা সবাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষক- এটি দেখায় যে, বোর্ড কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে না, বরং মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতি সমান নজরদারি নিশ্চিত করতে চাইছে। একইসঙ্গে বোর্ডের কাছে সিসিটিভির সবগুলো পাসওয়ার্ড ও আইডি রাখা হয়েছে, যা যে কোনো সময় কেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যালোচনার সুযোগ করে দেবে। এই পদক্ষেপ দুইভাবে কার্যকর বলে প্রমাণিত হতে পারে- একদিকে পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের মধ্যে সতর্কতা বাড়বে, অন্যদিকে বোর্ডের পক্ষে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
আমরা মনে করি, এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তির ব্যবহার নয়; এটি পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় একটি মানসিকতার পরিবর্তন। ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন ভিজিলেন্স টিমের সর্বক্ষণিক উপস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় নজরদারি- এই দ্বৈত ব্যবস্থা নকল প্রতিরোধে খুবই কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। বিশেষ করে, টিমের সদস্যরা যেকোনো অনিয়মের বিষয়ে তাৎক্ষণিক বোর্ডকে অবহিত করবেন- এটি সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়ার দ্বার খুলে দেবে।
তবে, শুধু প্রহরা বসালেই হবে না; পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি। পরীক্ষা একটি চমৎকার প্রক্রিয়া, যেখানে নিজের অর্জনই শ্রেষ্ঠ সাফল্য। এই সত্য উপলব্ধি করাতে অভিভাবক, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকেও ভূমিকা রাখতে হবে। এর পাশাপাশি, সিসিটিভি ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ; যাতে কোনো অভিযোগ উঠলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
এই উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে তা অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষার জন্যও আদর্শ হয়ে উঠতে পারে। আমরা আশা করি, পাবলিক পরীক্ষার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সব কর্তৃপক্ষ এই পথ অনুসরণ করবে এবং আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে মেধাভিত্তিক, ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের এই দূরদর্শী উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই এবং আশাবাদ ব্যক্ত করি যে, সিসিটিভি ও ভিজিলেন্স টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা হবে নকলমুক্ত, প্রশ্নফাঁসমুক্ত এবং সুষ্ঠু। তাহলেই মেধার মূল্যায়ন, যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতি সুবিচার করা হবে।