যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বিআরপিডি সার্কুলার লেটার-২৩ নিয়ে কিছু কথা

আকতারুল আলম বাবলু

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই,২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
বিআরপিডি সার্কুলার লেটার-২৩ নিয়ে কিছু কথা

ব্যাংক খাতে এখন সর্বাধিক আলোচিত বিষয় অনাদায়ী ঋণ আদায়/সমন্বয়ে বিশেষ এক্সিট সংক্রান্ত নীতিমালা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যু করা বিআরপিডি সার্কুলার লেটার-২৩, তারিখ ২৯ জুন, ২০২৬। দেশের চলমান খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য এই নীতিমালা একদিকে যেমন আশার সঞ্চার করেছে, অন্যদিকে কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। মন্দ বা ক্ষতিকর ঋণ মানে শ্রেণিকৃত ঋণসমূহ, যা ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে পুনঃতফসিল করা হয়েছে। উক্ত ঋণসমূহও এই সার্কুলারের আওতায় বিশেষ এক্সিট সুবিধা প্রাপ্য হবে। দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সর্বাধিক, যা দেশের অর্থনীতির জন্য আশংকা সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে বিআরপিডি সার্কুলার লেটার-২৩। বিআরপিডি-১ এর পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সার্কুলার আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা বলা হয়েছে।

বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় খেলাপি ঋণ গ্রাহককে এককালীন তার ঋণের সমুদয় অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এজন্য তিনি আরোপিত, অনারোপিত সুদ মওকুফের সুযোগ পাবেন। সমস্যা দেখা দিয়েছে মূলত এখানে। সার্কুলার অনুযায়ী গ্রাহককে আসল পাওনা বা প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট পরিশোধ করতে হবে। প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট ঠিক করা নিয়েই প্রধান সমস্যা। গ্রাহক চাইছেন ঋণের প্রথম বছরে ঋণ মঞ্জুরির বিপরীতে তার নেওয়া অর্থ প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট হিসেবে গণ্য করতে। ব্যাংকের হিসাব কিছুটা আলাদা। ঋণ বিতরণের পর প্রত্যেক প্রান্তিকে আদায়কৃত সুদ আসলে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে ৪/৫ বছরের মধ্যেই প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট প্রথম বছরের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে যায়। ব্যাংকগুলো তাদের প্রাপ্য সুদ আয় মুনাফা খাতে নিয়ে নেয়, তারপর তা থেকে সরকারকে উচ্চহারে কর পরিশোধ করে, শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করে, ব্যাংক কর্মীদের উৎসাহ বোনাস প্রদান করে। এরপর যা থাকে সেটা রিটেইন আর্নিং হিসেবে জমা থাকে। বর্তমান নির্দেশনানুযায়ী যদি এপর্যন্ত নেওয়া সব সুদ মওকুফ করতে হয় তাহলে ব্যাংকের আয় খাত ডেবিট করে সেটা করতে হবে। এর ফলে বেশিরভাগ ব্যাংক হঠাৎ করে একসাথে লোকসানে পড়ে যাবে। ব্যাংক কোনোভাবেই সেটা চাইবে না। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সেটা গ্রহণযোগ্যও হবে না। সেজন্য ব্যাংকগুলো সার্কুলার অনুযায়ী চলতে ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করেছে। আবার এক শ্রেণির গ্রাহক যাদের এতো দিন আলো জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি, তারা এর সুযোগ গ্রহণ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, বিভিন্ন জনের কাছে ধরনা দিচ্ছে, তদবির করার উৎস খুঁজছে। ব্যাংকগুলোর বিশাল লোকসান সামাল দেওয়ার জন্য সরকারের প্রণোদনা প্রয়োজন। যেসব ঋণ আদায় বা সমন্বয় করা হবে তার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনর্ভরণ না করলে ব্যাংকগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

একাধিক ব্যাংকের ম্যানেজার এ বিষয়ে বলছেন, যেহেতু সার্কুলার সদ্য ইস্যু করা হয়েছে, বিষয়বস্তু নতুন, এজন্য তারা দেখতে চাইছেন এখানে তাদের দায়দায়িত্ব কতোটা, তাদের প্রধান কার্যালয় এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়। মূলত শাখা পর্যায়ে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।

এ বিষয়ে যশোর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খানের সাথে কথা হলো। তিনি জানালেন, ইতোমধ্যেই তার কাছে একাধিক খেলাপি ঋণ গ্রহীতা অভিযোগ করেছেন যে, ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি জানান, অবিলম্বে তারা যশোরের ব্যাংক ম্যানেজার, গ্রাহক ও প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে একটা সভার আয়োজন করবেন এবং এরপর করণীয় ঠিক করবেন। সার্কুলারে সমুদয় দায়-আসলের পরিমাণ ঠিক করা নিয়েই মূলত সমস্যা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারেও এটা স্পষ্ট নয়। সার্কুলারের কার্যকারিতা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা বলা হয়েছে। এসময়ের মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট করা হলে দেশের চলমান খেলাপি ঋণ অনেকটা কমে আসবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)