প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রশ্নপত্রে ত্রুটির মতো জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও সম্প্রতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরিচালনার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরে সরকার যে পাঁচটি জরুরি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানানো এই উদ্যোগগুলো সরকারের আন্তরিকতার সাক্ষ্য দেয়। এখন এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও রাজপথ ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে।
সরকারের প্রথম ও প্রধান সিদ্ধান্ত হলো, চট্টগ্রাম বোর্ড বাদে সারাদেশে পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এটি প্রশংসনীয় যে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, যাতায়াত বা জলাবদ্ধতাজনিত সমস্যা মোকাবিলায় কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত বা সময় বৃদ্ধির মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি পদক্ষেপ, যা দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণে সহায়তা করবে।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, যেসব শিক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার অভিন্ন পত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে পুনঃপরীক্ষা দিতে পারবে। এই সুযোগের মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থীই পিছিয়ে পড়বে না। এটি ন্যায়বিচারের চমৎকার উদাহরণ।
চতুর্থত, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রে দুটি ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের অপ্রাপ্য কারণে নম্বর কাটার আশঙ্কা দূর হলো।
আর পঞ্চম সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রশ্ন প্রণয়নে অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবির প্রতিই সাড়া দিয়েছে। পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর, দায়ীদের শাস্তি- এই তিনটি বিষয়ই ছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি। সরকার সেই দাবি মেনে নিয়েছে। এখন আন্দোলনের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি আর অবশিষ্ট নেই। বরং এ সময় পরীক্ষার্থীদের উচিত, বাকি পরীক্ষাগুলোর জন্য পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া। মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশের বাস্তবতায় এইচএসসি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই কোনো শিক্ষার্থীর উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের সুযোগের বিষয়টি নির্ভর করে।
সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা অগ্রাধিকার। সরকার সেই অগ্রাধিকার পালনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এখন শিক্ষার্থীরা যদি সেই সুযোগ কাজে না লাগায়, তাহলে সেই দায় তাদের নিজেদের। আমরা বলবো, হুজুগে না মেতে পড়ার টেবিলে ফিরে যাও। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ো।